প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:০০ এএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জন নিহতের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিদের অব্যাহতি (ডিসচার্জ) চেয়ে করা আবেদনের ওপর শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হবে। আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি হবে।
এর আগে ২১ জুলাই প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে শুনানি শেষ হয়। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম আদালতে দুটি অভিযোগ তুলে ধরে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের আবেদন জানান। তিনি ঘটনার বিবরণ, হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট এবং প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তি আদালতে উপস্থাপন করেন।
এরপর আসামিপক্ষের শুনানি শুরু হয়। স্টেট ডিফেন্সের আইনজীবী আমির হোসেন তার চার মক্কেলের অব্যাহতি চেয়ে দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাদের এ মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অপর স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী এম. হাসান ইমামও তার মক্কেলদের অব্যাহতির আবেদন জানান।
আসামিপক্ষের বাকি আইনজীবীদের বক্তব্য অসমাপ্ত থাকায় ট্রাইব্যুনাল আজকের দিন ধার্য করেন। শুনানি শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর বিষয়ে পরবর্তী আদেশ বা তারিখ নির্ধারণ করতে পারেন আদালত।
মামলায় মোট ২৬ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে আটজন গ্রেফতার রয়েছেন। তারা হলেন-ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ওসি মো. মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল মো. হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মো. শাহ আলম এবং তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগকর্মী মো. ইরফানুল হক গাজী। বাকি ১৮ আসামি পলাতক রয়েছেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরা এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গুলিতে মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ সাতজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হন। পরদিন একই এলাকায় আরও চারজন নিহত হন। তদন্তে ঘটনাগুলোকে পরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ হামলা হিসেবে উল্লেখ করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
জ/উ