রূপপুরে ২৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকার অডিট আপত্তি, বড় অনিয়মের অভিযোগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১:১৬ পিএম

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে প্রায় ২৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকার অডিট আপত্তি উঠেছে। বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদপ্তর (ফাপাড)-এর বিশেষ নিরীক্ষা এবং আইএমইডির পরিদর্শন প্রতিবেদনে প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে ব্যয়, ক্রয়প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়নে অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই ইউনিটে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। শুরুতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও পরে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায়। এর মধ্যে গত ৯ বছরে প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

নিরীক্ষায় দেখা গেছে, ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত মোট ২৩০টি অডিট আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরেই সর্বোচ্চ প্রায় ১৫ হাজার ২০৭ কোটি টাকার অডিট আপত্তি রয়েছে।

বিশেষ নিরীক্ষায় রূপপুর প্রকল্পের আওতায় নির্মিত গ্রিন সিটি আবাসন প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। নির্মাণকাজ, যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ক্রয় এবং বিল পরিশোধসংক্রান্ত ১২০টি আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কিছু যন্ত্রপাতি সরকারি নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি দামে ক্রয় করা হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গ্রিন সিটির ১১টি ভবনের বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের সরঞ্জাম ও জেনারেটর কেনায় সরকারি মূল্য ছিল প্রায় ২৭ কোটি টাকা, অথচ এ খাতে বিল পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় ২১৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এছাড়া একটি ভবনের সরঞ্জাম ক্রয়েও সরকারি মূল্য ও বিলের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্যের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বহুল আলোচিত বালিশ ক্রয় বিষয়টিও উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, প্রকল্পে ৪ হাজার ৭০২টি বালিশ কেনা হয়। এর মধ্যে ৬০টি বালিশের জন্য মোট ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়, যেখানে নিরীক্ষকদের হিসাবে প্রকৃত মূল্য ছিল প্রায় ১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

আইএমইডির পরিদর্শন প্রতিবেদনে প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের ক্ষেত্রেও বিলম্বের আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের হালনাগাদ কর্মপরিকল্পনা ও অসমাপ্ত কাজের পূর্ণাঙ্গ তালিকা সংরক্ষণের ঘাটতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান নিরীক্ষায় চিহ্নিত অনিয়মের যথাযথ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ বাস্তবায়নে কার্যকর দুর্নীতি প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

অন্যদিকে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। সাবেক পরিকল্পনা সচিব মো. মামুন আল রশিদ বলেন, বড় অঙ্কের অডিট আপত্তি প্রকল্পের ক্রয়প্রক্রিয়া, তদারকি ও ব্যবস্থাপনায় বিধিগত দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয় এবং বিষয়গুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft