
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনসহ সব গণতান্ত্রিক সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯২১ সাল থেকে দেশে উচ্চশিক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
তিনি বলেন, বহু ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে। এখন সেই গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করার দায়িত্ব সবার। এ প্রেক্ষাপটে এবারের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন তিনি।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ন্যানোটেকনোলজি ও ডিজিটাল উদ্যোক্তা তৈরির মতো বিষয়গুলো শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, ব্যবহারিক দক্ষতা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ ও গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চাকে শিক্ষাব্যবস্থার অংশ করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানসিক স্বাস্থ্য, পরিবেশ সচেতনতা ও উদ্যোক্তা মনোভাব গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী।
জ/উ