প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২১ পিএম

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ভূঁইয়া ফিলিং স্টেশন পেট্রোল পাম্পে সোমবার দেখা গেল ব্যতিক্রমী এক চিত্র। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরাসরি মাঠে নেমে কঠোর অবস্থান নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান।
সকাল থেকেই পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। তবে এবার তেল পাওয়ার জন্য শুধু লাইনে দাঁড়ালেই হচ্ছে না হেলমেট, রেজিস্ট্রেশন ও বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখাতে হচ্ছে বাধ্যতামূলকভাবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলে কিংবা মাথায় হেলমেট না থাকলে কাউকেই পেট্রোল দেওয়া হয়নি।
পাম্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অনেক চালক নিয়ম মেনে হেলমেট পরে ও কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে তেল নিচ্ছেন। আবার অনেকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে কিছুটা ভোগান্তি হলেও অধিকাংশই এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
তেল নিতে আসা এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, আজকে একটু কড়াকড়ি দেখে প্রথমে অবাক হয়েছি। কিন্তু ভাবলে বুঝি-আমাদের নিরাপত্তার জন্যই করা হচ্ছে। এখন থেকে হেলমেট ছাড়া বের হব না।
আরেকজন চালক বলেন, এভাবে নিয়ম মানাতে পারলে দুর্ঘটনা অনেক কমবে। আগে এতটা গুরুত্ব দেইনি, এখন বিষয়টা সিরিয়াসভাবে নিচ্ছি। তবে যেসব চালক হেলমেট বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া এসেছিলেন, তাদের অনেকেই তেল না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।
দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পাওয়া এক চালক বলেন, প্রায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিলাম। শেষে এসে বলে হেলমেট নাই, তেল দেওয়া যাবে না। কষ্ট লাগছে, কিন্তু বুঝলাম নিয়ম না মানলে চলবে না।
আরেকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার লাইসেন্স বাসায় ছিল, সাথে আনিনি। এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পেলাম না। আগে থেকে জানালে ভালো হতো, তবে এখন থেকে সব কাগজপত্র নিয়েই বের হব।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের এমন উদ্যোগ মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দিনশেষে কঠোরতার মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়েছে একটি বার্তা আইন মানার বিকল্প নেই। নিজের নিরাপত্তা নিজের হাতেই, আর সেই সচেতনতা গড়ে তুলতেই প্রশাসনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতিমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জ/দি