বাগাতিপাড়ায় রাতের আঁধারে নিম্নমানের প্রাচীর নির্মাণ, তদন্তের পরও থামেনি অনিয়ম
বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩২ পিএম আপডেট: ১৭.০৪.২০২৬ ১২:০২ এএম

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে পূর্বে তদন্ত হলেও বাস্তবে কাজের মানে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। বরং এবার রাতের আঁধারে নির্মাণকাজ চালানোর নতুন তথ্য সামনে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কোনো প্রকার তদারকি ছাড়াই প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও অনিয়ম ঢাকতেই রাতে কাজ করা হচ্ছে।

এর আগে একই নির্মাণকাজে সিমেন্টের স্বল্প ব্যবহার, রডের সঠিক সেন্টারিং না রাখা এবং বালু ও ডাস্ট মিশিয়ে নিম্নমানের ঢালাইয়ের বিষয়টি উঠে আসে। তদন্তে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের প্রতিনিধিও এসব অনিয়মের সত্যতা পান এবং সংশোধনের আশ্বাস দেন। তবে বাস্তবে কাজের মান উন্নত না হয়ে আগের মতোই চলছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

আরও পড়ুন : বাগাতিপাড়ায় স্কুলের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এখনও ঢালাইয়ে সিমেন্টের পরিমাণ কম দেওয়া হচ্ছে এবং পিলারগুলো দুর্বল ও বাঁকা অবস্থায় তৈরি হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, “দিনে নজরদারি থাকে বলে এখন রাতে কাজ করছে, যাতে কেউ ধরতে না পারে।”

এলাকাবাসী আরও জানান, মানসম্মত কাজ হচ্ছে না। রাতের বেলা কাজ করাটা আরও সন্দেহজনক। এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি অর্থে পরিচালিত এই প্রকল্পে অনিয়ম বন্ধ করে দ্রুত মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

তবে, তদন্তের পরও যদি অনিয়ম বন্ধ না হয়, তাহলে তা শুধু দায়িত্বে অবহেলাই নয়, বরং জবাবদিহিতার ঘাটতির স্পষ্ট প্রমাণ। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা জরুরি বলে তারা মনে করছেন।

আরও পড়ুন :বিআরটিসি বাস সার্ভিস বন্ধের অপচেষ্টা, নেত্রকোণায় যাত্রীদের ক্ষোভ

এদিকে, ঠিকাদারপক্ষের ভাগিনা পরিচয়ে নয়ন বলেন, চারটায় ঢালাই শুরু করেছি কাজের মান ঠিক আছে কিনা দেখুন আমরা ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলেই রাতে কাজ করছি।  তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারের লোকজন প্রভাব খাটিয়ে দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মো. ফুয়াদ পূর্বে জানিয়েছিলেন, অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যকর ভূমিকা নিয়েও।

জ/দি

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft