প্রকাশ: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩৮ এএম

সাতসকালে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছিল দুই ‘অচেনা’ বন্যপ্রাণী। এদের আক্রমণে রক্তাক্ত হন এক গৃহবধূ, বাদ গেল না গবাদি পশুও। শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর ধনতলা ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামে এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। বন দপ্তরের দাবি ওটি খেঁকশিয়াল হলেও, স্থানীয়দের একাংশের দাবি- ওগুলো আসলে হায়না।
গ্রামবাসী জানান, এদিন দুপুরে মন্ডলপাড়া গ্রামের মইনুল হকের স্ত্রী আমেনা বেগম বাড়ির কাজ সেরে বাইরে বেরোনোর সময় আচমকা দুটি বন্যপ্রাণী তাকে ঘিরে ধরে। আতঙ্কিত আমেনা চিৎকার করে পালানোর চেষ্টা করলে একটি প্রাণী ঝাঁপিয়ে পড়ে তার নাকের ওপর কামড় বসিয়ে দেয়। এরপর বন্য প্রাণী দুটি সামনে থাকা তিনটি গরুকেও কামড় দিয়ে জখম করে।
গৃহবধূর চিৎকার শুনে লাঠিসোঁটা নিয়ে ছুটে আসেন গ্রামবাসী। শুরু হয় তাড়া। ধাওয়ার মুখে একটি প্রাণী চম্পট দিলেও অন্যটিকে ধরে ফেলেন গ্রামবাসী। উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে মৃত্যু হয় এর। পরে মৃতদেহটি গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। খবর জানাজানি হতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। সন্ধ্যার পর থেকেই মশাল ও লাঠি হাতে গ্রামে টহল দিতে শুরু করেন স্থানীয়রা।
আক্রান্ত আমেনাকে অবস্থায় ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি বুলবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘আহত নারীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এলাকায় ভীতি কাটাতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বাহিনীকে পাঠানো হয়েছে।’
অন্যদিকে প্রাণীটির পরিচয় নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ধনতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাসুদ রানা জানান, ভারত সীমান্ত লাগোয়া এই এলাকায় এর আগে নাগর নদীতে কুমিরসহ নানা বিরল প্রাণী দেখা গিয়েছে। তাই স্থানীয়রা একে 'হায়েনা' বলেই দাবি করছেন। তবে বন বিভাগের ঠাকুরগাঁও জেলা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বিষয়টি একটু অন্য নজরে দেখছেন।
তিনি বলেন, প্রাণীটি দেখতে হায়েনার মতো মনে হলেও আসলে এটি বড় আকারের খেঁকশিয়াল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বর্তমানে এদের প্রজনন ঋতু চলায় কিছুটা হিংস্র হয়ে উঠতে পারে।
জ/দি