প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ১:৪৯ পিএম

বান্দরবানের লামায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করেছেন পার্বত্যবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে লামা উপজেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নাম্বার ওয়ার্ড এলাকার এক হাজার ৯৭টি পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পার্বত্যমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের প্রান্তিক ও হতদরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো সরাসরি সহায়তা পাবে, যা তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলো নিয়মিত সহায়তা পেলে তাদের জীবনযাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে ভূমিহীন, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, বেদে সম্প্রদায়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং স্বল্প জমির মালিক পরিবারগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড পাবে। কার্ডধারী পরিবারকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে। যার মাধ্যমে পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন জানান, প্রথম ধাপে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নাম্বার ওয়ার্ডে মোট ১ হাজার ২৭৪ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের সময় ১৩৮ পরিবারের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকায় তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। ৬১ জনের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পরে অবশিষ্ট ১ হাজার ৯৭ পরিবারকে চূড়ান্তভাবে বাছাই করে কেন্দ্রীয় ফ্যামিলি কার্ড বাছাই কমিটির কাছে পাঠানো হয়।
জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং উপকারভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রথম ধাপে লামা উপজেলায় চালু হওয়া এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সফল হলে পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও এটি সম্প্রসারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জ/উ