যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু চুক্তিতে ‘ইতিবাচক অগ্রগতির’ দাবি ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৯ এএম

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত পরোক্ষ পরমাণু আলোচনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইতিবাচক অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই আলোচনার পর ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, দীর্ঘ অচলাবস্থার পর উভয় পক্ষ একটি সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া তৈরির লক্ষ্যে কিছু ‘নির্দেশনামূলক নীতিমালার’ বিষয়ে একমত হতে পেরেছে। 

তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সুর কিছুটা মিশ্র।  মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও তেহরান এখনো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্ধারিত সব ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, ওমানে অনুষ্ঠিত আগের দফার আলোচনার চেয়ে জেনেভার বৈঠক অনেক বেশি ফলপ্রসূ ছিল।  বর্তমানে উভয় পক্ষের সামনে একটি পরিষ্কার পথ তৈরি হয়েছে এবং শিগগরিই চুক্তির খসড়া বিনিময় করে তৃতীয় দফার আলোচনার তারিখ নির্ধারণ করা হবে।  এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের ঝুঁকি এড়ানো।

আরও পড়ুন : হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

এদিকে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, প্রশাসন কূটনীতিকে প্রাধান্য দিলেও তেহরানকে অবশ্যই মার্কিন শর্তাবলী মেনে নিতে হবে।  তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট যখন মনে করবেন যে কূটনীতির সময় শেষ হয়ে এসেছে, তখন তিনি যে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। বিশেষ করে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির মতো বিষয়গুলো নিয়ে ওয়াশিংটন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

আলোচনার সমান্তরালে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনাও চরমে।  সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে, যার মধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ইরানি উপকূলের মাত্র ৭০০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থান করছে।  এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের কাছে মার্কিন রণতরী ডুবিয়ে দেওয়ার মতো বিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে।  একইসঙ্গে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া শুরু করেছে ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস।

আরও পড়ুন : আল আকসা মসজিদের ভেতর থেকে ইমামকে গ্রেফতার করেছে ইসরায়েল

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে গত জুনের যুদ্ধের প্রভাবে কিছুটা ক্ষতি হওয়ায় তেহরান হয়তো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়ে কিছুটা নমনীয় হতে পারে।  তবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক প্রভাবের মতো বিষয়গুলোতে ইরান বড় কোনো ছাড় দিতে নারাজ। 

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন, তারা কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চান না, তবে চিকিৎসা ও কৃষি খাতের উন্নতির জন্য পরমাণু বিজ্ঞান ব্যবহারের অধিকার তাদের রয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft