প্রকাশ: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১২ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগের একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থান জানালেন ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বাবার হারানো রাজনৈতিক আসন পুনরুদ্ধার করে নতুন ইতিহাস গড়লেন এই তরুণ নেত্রী।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে নাটোরের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল ১ লাখ ২ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ৯০ হাজার ৫৬৮ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপু (কলস প্রতীক) পেয়েছেন ৭৩ হাজার ১৭৩ ভোট।
ব্যারিস্টার পুতুল নাটোরের বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও বিএনপির সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত ফজলুর রহমান পটলের কন্যা। ফজলুর রহমান পটল ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে টানা তিনবার এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি হাতছাড়া হওয়ার পর দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ এই আসনে বিএনপির কোনো প্রতিনিধিত্ব ছিল না। সেই শূন্যতা কাটিয়ে বাবার রাজনৈতিক দুর্গে আবারও ধানের শীষের বিজয় পতাকা উড়ালেন তারই কন্যা।
নাটোর-১ আসনের অন্তর্গত লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলার ভোটাররা বিপুল সমর্থন দিয়ে পুতুলকে বিজয়ী করেছেন। ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হলেও দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নবঞ্চিত এই অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা এখন নতুন করে জেগে উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, নাটোর জেলা, বিশেষ করে লালপুর-বাগাতিপাড়া এলাকায় এখনো শিল্পায়ন, উচ্চশিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। নাটোর সহ এ অঞ্চলে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ সার্বিক উন্নয়নের জন্য এবার একজন পূর্ণমন্ত্রীর প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ।
ভোটারদের ভাষ্য, “এবার যেন বঞ্চনার অবসান হয়। উন্নয়নের ছোঁয়া পায় লালপুর-বাগাতিপাড়া।” অন্যথায় ভবিষ্যতে ভোটের রাজনীতিতে ভিন্ন চিন্তার ইঙ্গিতও দিয়েছেন অনেকেই। নতুন সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ-জনগণের এই প্রত্যাশা বাস্তবায়ন করা।
জ/দি