প্রকাশ: রোববার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫, ১২:১১ পিএম

আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই শুরু হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ। বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই প্রকল্পে ১০ বছরে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। প্রথম পাঁচ বছরে গুরুত্ব পাবে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, নদীভাঙন রোধ এবং স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ।
উত্তরের দুই কোটির বেশি মানুষের জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষভাবে তিস্তা নদীর সঙ্গে জড়িত। কিন্তু বছরের পর বছর এই নদীর ভাঙন ও অপ্রত্যাশিত পানিপ্রবাহে ক্ষতির মুখে পড়ছে উত্তরের পাঁচ জেলা নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা। বর্ষায় ভারতের তরফ থেকে হঠাৎ সব কপাট খুলে দেওয়ার কারণে নদীর প্রবাহ দ্রুত বেড়ে যায়, প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ এলাকা। অন্যদিকে, শুষ্ক মৌসুমে পানি একেবারে বন্ধ করে দেওয়ায় কৃষি ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
রিভারাইন পিপলের এক গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিবছর তিস্তার ভাঙন ও প্লাবনে পাঁচ জেলার মানুষ প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হন। বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ, হারিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি।
সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন চীনের ডিরেক্টর অব দ্য পলিটিক্যাল সেকশন জং জিং। তার নেতৃত্বে সম্প্রতি চীনা প্রতিনিধি দল মতবিনিময় করেছে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ ও তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনসহ নদীপারের মানুষের সঙ্গে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০১৪ সাল থেকে শুষ্ক মৌসুমে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত তিস্তার সব পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। আর বর্ষাকালে তিস্তায় প্রবাহিত হয় তিন থেকে চার লাখ ঘনফুট পানি। সব কপাট খুলে দেওয়া হয়। দ্রুত বেগে নেমে আসা তিস্তার পানিতে উত্তরের পাঁচ জেলা নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যায়। ভাঙনের পাশাপাশি ব্যাপক ফসলি জমি ক্ষতির মুখে পড়ে।
তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানি বলেন, “১০ বছরের বেশি সময় ধরে আমরা আন্দোলন চালিয়ে এসেছি। তিস্তাকে অতীতে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করা হলেও বাস্তব কোনো অগ্রগতি হয়নি। এখন অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে, তাতে অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের আশা জাগছে।”
জ/উ