পাটগ্রামে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৯, বিএনপির দুই নেতা বহিস্কার
পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৫ জুলাই, ২০২৫, ৭:৩৭ পিএম আপডেট: ০৫.০৭.২০২৫ ৭:৪০ পিএম

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানায় হামলা করে দুই সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দুই থানায় দায়ের করা মামলায় ৯জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

এ ঘটনায় পাটগ্রাম থানায় দায়েরকৃত মামলায় ছিনিয়ে নেওয়া সাজাপ্রাপ্ত আসামি সোহেল সহ দুইদিনে সাত জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। অপরদিকে একই ঘটনায় শনিবার হাতিবান্ধা থানা অবরুদ্ধ করে রাখায় দায়েরকৃত অন্য একটি মামলায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কাজল ও বিপ্লব নামে আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হাতিবান্ধা থানায় সরকারী কাজের বাধা, অবরোধ ও হুমকির অভিযোগে হাতীবান্ধা থানার এএসআই শাহেদুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।

হাতিবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুন-নবী বলেন, হাতিবান্ধা থানা অবরুদ্ধ ও সরকারী কাজে বাধাদানের মামলায় ১ নং আসামী নুরুন্নবী কাজলসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। 

এদিকে শুক্রবার রাতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নীতি-আদর্শ পরিপন্থি অনাচারের দায়ে পাটগ্রাম উপজেলা বিএনপির সদস্য বাদশা জাহাঙ্গীর চপলকে বহিষ্কার করেছে জেলা বিএনপি। এর আগে পাটগ্রাম পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদ হোসেনকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করে যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় গত বুধবার সন্ধ্যায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে সরেআ বাজার নামক এলাকায় চাঁদাবাজির সময় বেলাল ও সোহেল রানা চপল নামে দুইজনকে হাতেনাতে আটক করে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উত্তম কুমার দাশ ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। এসময় তাদের মুক্তির জন্য একযোগে সংঘবদ্ধভাবে থানায় হামলা চালায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। পুলিশ তাদের বাধা দিলে উভয়পক্ষে সংঘর্ষ হয়। এতে ওসি সহ আট পুলিশ সদস্য আহত হন। এসময় জেলা পুলিশ সুপার পার্শ্ববর্তী হাতীবান্ধা থানা থেকে পুলিশের অতিরিক্ত ফোর্স সহযোগিতা চাইলে হাতীবান্ধা থানার বিএনপি'র নেতা-কর্মীরা সেই থানাও অবরুদ্ধ করে রাখে। পরেরদিন সকালে ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।

এঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে পাটগ্রাম থানায় পুলিশ বাদী হয়ে ২৭জনের নাম উল্লেখ করে এবং শতাধিক অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করে। সেই সাথে হাতীবান্ধা থানায়ও মামলা দায়ের করে পুলিশ।

এর আগে থানায় ঘেরাও করে হামলা, ভাঙচুর ও আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান শুক্রবার দুপুরে পাটগ্রাম পৌর বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। ঐ সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করে বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এটি প্রশাসনিক ও ব্যবসায়িক বিরোধের বহিঃপ্রকাশ।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ছিনিয়ে নেওয়া আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে অনেককে শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

থানা ভাংচুর ও আসামী ছিনতাইয়ের ঘটনায় এলাকা জুড়ে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ ঘটনায় নিরীহ মানুষ যাতে ফেঁসে না যায় তার দাবী জানিয়েছে স্থানীয়রা।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft