ছাতকে খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহে অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২২ জুন, ২০২৫, ৭:৫৫ পিএম

সুনামগঞ্জের ছাতকে সরকারী খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহের নামে অনিয়ম-দূর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সরকারী নিয়ম নীতির তুয়াক্কা না করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বড় অংকের ঘুষ ক্যালেঙ্কারির মাধ্যমে ধান ক্রয় করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, খোদ খাদ্যগুদাম এর কর্মকর্তা-কর্মচারিরাও বিভিন্ন মিল মালিকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করে গুদামে বিক্রি করছেন বলে জানা গেছে। 

ফলে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা; আর লাভবান হচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ী ও খাদ্যগুদাম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারিরা।

ছাতক খাদ্যগুদাম সূত্রে জানা যায়, গেল ২৪ মে থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে এখানে ধান সংগ্রহ শুরু হয়। লক্ষমাত্রা ধরা হয় ৯৪৫ মেট্রিকটন। ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত ধান সংগ্রহের কথা রয়েছে। কিন্তু গেল ১৮জুন পর্যন্ত ৭০০ মেট্রিকটন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে।

জানা গেছে, এবছর স্থানীয় বাজারে প্রতি মন (বড়) ধানের মুল্য ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকা। কৃষকদের উৎসাহীত করতে ভর্তূকির মাধ্যমে সরকারী মুল্য ধরা হয়েছে ১৪৪০ টাকা। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেকেই স্থানীয় বাজার থেকে ধান সংগ্রহ ও কৃষক ভাড়ার মাধ্যমে অনিয়ম-দূর্নীতি করে যাচ্ছেন। সুযোগটি হাত ছাড়া না করে গুদাম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বিশ্বস্থ লোক দিয়ে বিভিন্ন মিল থেকে সরকারী বস্তায় ধান বস্তাজাত করে গাড়ি যোগে সরাসরি গুদামে বিক্রি করছেন। বিভিন্ন অযুহাতে ব্যবসায়ীরা প্রতিটন ধান ৪ হাজার টাকা হারে ঘুষ দিতে হচ্ছে খাদ্যগুদাম এর কর্মকর্তাকে। অন্যান্য বছর লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হলেও এ বছর পকেট ভারি করার জন্য লটারি হয়নি। 

কৃষি বাতায়ন তথ্যমতে, এ উপজেলায় ৮ হাজার ২৫জন কৃষক রয়েছেন। এর মধ্যে প্রকৃত পক্ষে হাতেগুনা কয়েকজন কৃষক ঘুষ দিয়ে ধান বিক্রি করলেও অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা কৃষক ভাড়ায় এনে গুদাম কর্তৃপক্ষকে ঘুষ দিয়ে তাদের নাম ব্যবহার করে ধান গুদামজাত করছেন। এতে বিএনপি-আ'লীগ, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট, খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা-কর্মচারি মিলেমিশে একাকার। 

অভিযোগ উঠেছে, তদারকি না থাকায় খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার নিজস্ব লোক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের পর গুদামে বিক্রি করে ঘুষের রাম-রাজত্র কায়েম করছেন। ক্যালকোলেটর হিসেব বলছে, ইতিমধ্যে সংগ্রহকৃত ৭০০ মেট্টিকটন ধানে ৪ হাজার করে ঘুষ নিলে তাদের বাণিজ্য হয়েছে ২৮ লাখ টাকা। আর লক্ষমাত্রা অনুযায়ী ৯৪৫ মেট্টিকটন সংগ্রহের পর শুধু ঘুষ বাণিজ্য দাড়াবে ৩৭ লাখ ৮০ হাজার টাকায়। নিজস্ব লোক দিয়ে ধান ক্রয় করে গুদামজাত করলে প্রতি মন ধানে লাভ আসছে ৩০০ টাকা৷ এতেও কয়েক লক্ষ টাকা বাণিজ্য করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। সব মিলিয়ে এ বছর প্রায় অর্ধকোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্য করেও কিভাবে ধরা ছোঁয়ার বাহিরে রয়েছেন এসব কর্মকর্তা-কর্মচারিরা, এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। 

এদিকে, খাদ্যগুদামে অনিয়ম-দূর্নীতির ঘ্রান পেয়ে নোয়াখালী জেলার বাসিন্দা, সুরমা নদীর দোয়ারাবাজারের ফেরি চালকের ছেলে, ভুঁইফোড় সাংবাদিক সাজ্জাদ মনির ওরফে ইয়াবা মনির ও দোয়ারাবাজার এলাকার সাংবাদিক আবু বক্কর খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার কাছে মাসিক ২৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করেছে। গোপন ক্যামেরায় ধারনকৃত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার বক্তব্যে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ছাতক খাদ্যগুদাম (এলএসডি) কর্মকর্তা সুলতানা পারভীন চাঁদা দাবীর বিষয় প্রচার না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা ও টন প্রতি ৪হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি সত্য না। 

তিনি বলেন, ২০১২ সালের কৃষি অফিস থেকে দেওয়া তালিকার ভিত্তিতে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হচ্ছে। তবে কিছু ব্যক্তি দলের পরিচয় দিয়ে ধান ক্রয়ের জন্য তাকে চাপ দিচ্ছেন। 

এছাড়া ব্যবসায়ীরা ধান বিক্রির জন্য আসছেন, কিন্তু তাদের ধান ক্রয় করছেন না। কৃষি কার্ড ও এনআইডি দেখে কৃষকদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে ধান ক্রয় করে তিনি গুদামজাত করছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, খাদ্যগুদামে প্রতি বছর কৃষকদের তালিকা দিলেও তারা পাইকারদের (ব্যবসায়ীর) কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে থাকে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, এখানে তারা কিভাবে ধান সংগ্রহ করছেন তা অবহিত করেননি। খোঁজখবর নিয়ে বিধি মোতাবেক তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft