
কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমে বিদ্যমান ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
গতকার বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, পর্যটন উন্নয়নের সম্ভাবনাময় এলাকাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করতে হবে। তবে উন্নয়ন কার্যক্রম অবশ্যই পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করেই বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিত উল্লম্ব (ভার্টিক্যাল) উন্নয়নের মাধ্যমে কক্সবাজারকে আধুনিক পর্যটন নগরীতে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ, রেল যোগাযোগ এবং উন্নত সড়ক অবকাঠামো নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে। এসব প্রকল্পের সমন্বয়ে কক্সবাজারকে আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে কক্সবাজারকে অন্যতম প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র (গ্রোথ হাব) হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যটন, বাণিজ্য ও সেবাখাতের বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে জেলার অবদান আরও বাড়বে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব অর্থমন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হবে।
তিনি বলেন, মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটন হাব এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পর্যটন এলাকা নির্ধারণ, মেরিন ড্রাইভ ও উপকূলীয় এলাকার বিদ্যমান বিধিনিষেধ পর্যালোচনা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
এ ছাড়া নিরাপদ পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পানি শোধনাগার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর মাধ্যমে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
বৈঠকে পর্যটন, পরিবেশ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, ভূমি, জনপ্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জ/উ