প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৩:৩৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি (১২৩ এগ্রিমেন্ট) অনুমোদন করেছেন। একাধিক মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে এ খাতে অন্যান্য বিদেশি প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণ সীমিত হতে পারে। বুধবারের মধ্যেই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানি মন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। এর আগে তারা রিয়াদে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকে সই করেছিলেন। ১৯৫৪ সালের মার্কিন অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্টের ১২৩ ধারার আওতায় এ চুক্তি ছাড়া মার্কিন সরকার বা কোম্পানিগুলো সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারে না।
প্রায় ৩০ বছর মেয়াদি এ চুক্তির সম্ভাব্য মূল্য কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আওতায় ওয়েস্টিংহাউসসহ মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদির পারমাণবিক অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চুক্তির অন্যতম আলোচিত দিক হলো, এতে যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ নিরাপত্তা শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ পারমাণবিক জ্বালানি চক্রের কিছু বিষয়ে আইনি সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে সৌদি আরবের কাছে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি হস্তান্তরে বাধ্য করা হচ্ছে না।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা (Additional Protocol) চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, যা নিয়ে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অতীতে বলেছেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তাহলে সৌদি আরবও প্রয়োজন হলে একই পথে হাঁটবে। একই সঙ্গে দেশটি দীর্ঘদিন ধরে নিজস্বভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার দাবি করে আসছে।
চুক্তিটি নিয়ে অস্ত্র বিস্তাররোধ বিশেষজ্ঞ, মার্কিন কংগ্রেসের কিছু আইনপ্রণেতা এবং ইসরাইল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা শর্ত না থাকলে ভবিষ্যতে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
চুক্তিটি এখন মার্কিন কংগ্রেসে ৯০ দিনের পর্যালোচনার মুখোমুখি হবে। এ সময়ের মধ্যে কংগ্রেস চাইলে যৌথ প্রস্তাবের মাধ্যমে এটি আটকে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে পারবে। তবে প্রেসিডেন্ট ভেটো দিলে তা কার্যকর করতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন হবে।