লালমনিরহাটে গ্রামীণ সড়কের বেহাল দশা: ১০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ, স্থায়ী সংস্কারের দাবি
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩১ পিএম

লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের খারুয়া গ্রামের প্রধান সংযোগ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ভাঙন ও খাদের সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ধরলা নদীর পূর্ব পাশের বেরিবাঁধ সংলগ্ন বোয়ালমারী মসজিদ থেকে খারুয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের দুই পাশের মাটি ধসে পাশের জমিতে পড়ে গেছে। ফলে মোটরসাইকেল, ভ্যান, রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পথচারীরাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

স্থানীয়রা জানান, এ সড়ক দিয়ে খারুয়াসহ অন্তত পাঁচটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া কিংবা কৃষিপণ্য পরিবহন- সব ক্ষেত্রেই সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ মোশারফ হোসেন বলেন, আগেও এই কাঁচা রাস্তায় কাজ হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে কাজ হওয়ার কথা ছিল, সেভাবে হয়নি। যেখানে ভাঙন ছিল, সেখানে শুধু নামমাত্র মাটি ফেলা হয়েছিল। এখন বৃষ্টির কারণে রাস্তার দুই পাশের মাটি ধসে জমিতে পড়ে যাচ্ছে। এতে প্রতিদিন চলাচলে চরম ভোগান্তি হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় সড়কটি ভেঙে গেলে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয় করে তিন কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করেন। কিন্তু স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর বর্ষায় একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।

ওই এলাকার ইউপি সদস্য মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটিতে বালুমাটি থাকায় বর্ষাকালে সহজেই ভেঙে যায়। বরাদ্দ অপ্রতুল হওয়ায় স্থায়ীভাবে সংস্কার করা সম্ভব হয় না। দুই পাশে গাইডওয়াল নির্মাণ করে সড়কটি পাকাকরণ করা গেলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আল আমিন বলেন, মাননীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় গাইডওয়াল নির্মাণ করে সড়কটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে সড়কটির স্থায়ী সংস্কার করা হোক। একই সঙ্গে নদীভাঙন ও মাটি ধস রোধে প্রয়োজনীয় গাইডওয়াল নির্মাণের মাধ্যমে টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এতে হাজারো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে এবং এলাকার শিক্ষা, কৃষি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও স্বাভাবিক থাকবে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft