
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, যুগে যুগে পরাজিত শক্তি আত্মসমর্পণ করলেও তাদের সহযোগীরা বিভিন্নভাবে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। তার দাবি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও এমন অপচেষ্টা চলছে।
বুধবার (২২ জুলাই) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে এবি পার্টি আয়োজিত ‘আলেম, ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ: রক্তবিধৌত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর বিজয়নগরে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভাটি সঞ্চালনা করেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ৫ মের নৃশংসতার ঘটনায় মানুষ গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমে আসেন এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পরাজিত শক্তি আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানে চলে গেলেও তাদের দালাল ও প্রেতাত্মারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে আশ্রয় নিয়ে পুনরায় সংগঠিত হয়েছিল। “এবারও ফ্যাসিবাদ পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের কিছু দালাল ও প্রেতাত্মা দেশে রয়ে গেছে। তারা এখন নানাভাবে ফ্যাসিবাদকে প্রাসঙ্গিক করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে,”—বলেন তিনি।
মঞ্জু আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আলেম-ওলামারাও রাজপথে নেমেছিলেন। আলেম সমাজের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে তারা আপসহীন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, আন্দোলনের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পরে কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যুক্ত হন। পরবর্তীতে নারী-পুরুষ, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের অংশগ্রহণে গণঅভ্যুত্থান সফল হয় বলে তিনি দাবি করেন।
সভায় খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী বলেন, আলেম-ওলামারা সবসময় সাহসিকতার সঙ্গে বিভিন্ন আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন। তার মতে, দেশপ্রেমিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই এই পরিবর্তন এসেছে।
তিনি আরও বলেন, কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ সম্ভব নয়। জুলাই সনদের বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীজ রোপিত হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, জঙ্গিবাদের অভিযোগ ব্যবহার করে তৎকালীন সরকার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় টিকে ছিল।
ইসলামি যুব সমাজের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ খান বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কোনো প্রত্যক্ষ স্বার্থ না থাকলেও তারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল।
খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে আলেম-ওলামাদের ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জুলাই যোদ্ধা মাওলানা সাদমান ফুয়াদ ও মো. আলিফ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, গণশিক্ষা ও পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার ফারুক, সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলুসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
জ/উ