প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫৮ পিএম

বৃষ্টির দিনে অনেকেরই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঘুম ঘুম লাগে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে পরিবেশগত পরিবর্তন ও শরীরের জৈবিক প্রক্রিয়ার সম্মিলিত প্রভাব কাজ করে।
সূর্যালোক কমে যাওয়া
বৃষ্টির দিনে সূর্যের আলো কম থাকায় শরীরের জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমে কিছুটা পরিবর্তন আসে। কম আলো মস্তিষ্কে ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোন মেলাটোনিনের নিঃসরণ বাড়াতে সহায়তা করতে পারে, ফলে তন্দ্রাভাব অনুভূত হয়।
শীতল ও আরামদায়ক পরিবেশ
বৃষ্টির সময় তাপমাত্রা সাধারণত কিছুটা কমে যায়। তুলনামূলক ঠান্ডা পরিবেশ শরীরকে শিথিল করে এবং ঘুমের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করে।
বৃষ্টির শব্দের প্রভাব
বৃষ্টির একটানা শব্দ অনেকের কাছে ‘হোয়াইট নয়েজ’ হিসেবে কাজ করে। এটি আশপাশের অন্যান্য শব্দ আড়াল করে মনকে শান্ত করতে পারে, যা বিশ্রাম বা ঘুমের অনুভূতি বাড়ায়।
বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তন
বৃষ্টির সময় বায়ুচাপ ও আর্দ্রতার পরিবর্তন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ক্লান্তি বা তন্দ্রাভাবের অনুভূতি বাড়াতে পারে। তবে এ বিষয়ে ব্যক্তিভেদে অভিজ্ঞতা ভিন্ন হতে পারে এবং গবেষণা এখনো চলমান।
মানসিক প্রশান্তি
মেঘলা আকাশ, বৃষ্টির ছন্দ ও শান্ত পরিবেশ মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে ছুটির দিনে বা অবসরে থাকলে এই প্রশান্তি ঘুমের প্রবণতা আরও বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির দিনে ঘুম ঘুম লাগা সাধারণত স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া। তবে যদি দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ঘুম, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
জ/উ