সড়ক উন্নয়ন কাজ বন্ধ, পাঁচ গ্রামের বাসিন্দা ও তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চরম দুর্ভোগ, প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

গাজীপুরের কাপাসিয়ার দুর্গাপুর ইউনিয়নের বেগুনহাটি এলাকায় একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের নির্মাণ কাজ প্রায় ছয় মাস ধরে বন্ধ থাকায় পাঁচ গ্রামের বাসিন্দা ও তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। পাশাপাশি এ সড়কের এক পাশে বৃষ্টির পানি আটকে তিন গ্রামের বাসিন্দাদের বসতবাড়ি তলিয়ে যাচ্ছে, বহু ফলদ ও বনজ গাছপালা মরে যাচ্ছে এবং অনেকগুলো পুকুরের মাছ বেরিয়ে গেছে। এসব ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পেতে এবং সড়কটি জনগণের চলাচলের উপযোগী করার দাবিতে সর্বস্তরের জনগণ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন।
মানববন্ধন শেষে স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ মনিরুদ্দিন খন্দকার জানান, গাজীপুর থেকে রাণীগঞ্জ গামী আঞ্চলিক সড়কের সাথে যুক্ত বেগুনহাটি- খিলগাঁও সড়কটি প্রায় শত বছরের পুরানো। এ সড়ক দিয়ে বেগুনহাটি, নাশেরা, খিলগাঁও, বাড়ৈগাও ও গোসাঁইরগাও গ্রামের বাসিন্দারা এবং বেগুনহাটি ফাজিল মাদ্রাসা, বেগুনহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বেগুনহাটি নূরে মদিনা হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকগণ প্রতিদিন যাতায়াত করে থাকেন।
স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনস্থ ১২ ফুট প্রশস্ত ও প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দৈর্ঘর এ সড়টি প্রায় এক বছর আগে পাকা করণের জন্য টেন্ডার হয়েছে। পরে স্থানীয় দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এম এ ওহাব খান খোকা এ কাজের ঠিকাদার হিসেবে নির্বাচিত হন।
প্রায় ছয় মাস আগে তিনি নির্মাণ কাজ শুরু করলে এ সড়কের শুরুর দিকে বেগুনহাটি বিলের মাঝখানের সড়কের একটি কালভার্টের নিচের অংশের প্রায় এক বিঘা ফসলী জমি কিনে নিয়ে স্থানীয় তাজুল ইসলাম মাটি ফেলে ভরাট করে ফেলেন। ফলে সাম্প্রতিক সময়ের ভারি বর্ষণে রাস্তাটির বেশ কিছু অংশ পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং তিনটি গ্রামের বাসিন্দারা পানি বন্দী হয়ে নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি এ সড়ক দিয়ে জনসাধারণ চলাচল, নানা জিনিস পরিবহন ও যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
প্রায় কয়েক কিলোমিটার ঘুরে জনসাধারণকে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয় খিলগাঁও বিকে দাখিল মাদ্রাসার সহ সুপার মোঃ লোকমান হোসেন জানান, সড়কটি চলাচলের উপযোগী না থাকায় গত প্রায় ছয় মাসে অত্র এলাকার কৃষকরা তাদের বাগানে উতপাদিত লিচু, আম, জাম, কাঁঠাল ও আনারসসহ নানা জিনিস পরিবহন করতে পারছেন না। তাছাড়া অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। এসব এলাকায় বিয়েসাদি সহ নানা অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। শত শত লিচু, পেয়ারা, কলাসহ নানা জাতের গাছ মরে গেছে। ফলে তারা অনতিবিলম্বে এ সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ করা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানান।
এ বিষয়ে ওই সড়কের ঠিকাদার ও ইউপি চেয়ারম্যান এম এ ওহাব খান খোকা বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্থতায় কাছাকাছি দূরত্বে একটি কালভার্ট নির্মাণের স্থান নির্ধারিত হয়। কিন্তু সেখানে কারোর জমি নেই এমন তিনজন নারী এবং একজন পুরুষ মাটি খননের ক্সকেভটরের সামনে এসে শুয়ে পড়ে এবং অশালীন আচরণ করলে তিনি নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে একটিলিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং খুব শীঘ্রই তাদের সহযোগিতায় তিনি নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মোঃ ফারুক হোসেন বলেন, ওই সড়কের ঠিকাদার প্রথম থেকেই কাজ শুরু করতে দেরি করেছেন। সময় মতো কাজ শুরু করলে বর্ষা মৌসুমের আগেই কাজ শেষ হয়ে যাবার কথা। কালভার্টের জটিলতা নিরসনের জন্য তিনি একাধিকবার ঘটনাস্থল দর্শন করেছেন। শীঘ্রই ওই সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।