প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৫:২৮ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর-কোম্পানীগঞ্জ সড়কের বাঙ্গরা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়া অবস্থায় রয়েছে। এতে করে যেকোনো সময় কালবৈশাখী ঝড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও চলাচলকারীরা।
স্থানীয়রা জানান, খুঁটিটিতে তিনটি ট্রান্স মিটার রয়েছে, যার কারনে খুঁটিটি ধীরে ধীরে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ঝড়-বৃষ্টি বা দমকা হাওয়ার সময় এটি ভেঙে পড়ে সড়কে চলাচলকারী মানুষ কিংবা পাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আঘাত হানতে পারে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
অটোরিক্সা চালক সুমন মিয়া বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এই খুঁটির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বেশির ভাগ গাড়িচালক দুর্ঘটনার ভয়ে দ্রুত গাড়ি চালান। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আমরা চালকরা এই খুঁটির আশেপাশে গাড়ি পার্কিং করতেও ভয় পাই।
বাঙ্গরা বাজারের ব্যবসায়ী মো. ইয়াসিন মিয়া বলেন, অনেক দিন ধরে খুঁটিটা এভাবে হেলে আছে। বিদ্যুৎ অফিস থেকে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে। স্থানীয় বিভিন্ন স্কুল-কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া-আসার সময় এই পথ ব্যবহার করেন। যে কোনো সময় খুঁটি পড়ে বড় দুর্ঘটনা হতে পারে। আমরা দ্রুত এটি মেরামত বা নতুন খুঁটি স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।
বাঙ্গরা বাজারের লাইনম্যান মো. বাবু জানান, বাঙ্গরা বাজারে বিভিন্ন কাজে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসে। তাই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং সবার নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করে।
এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং আমরাও দেখছি। তবে বিষয়টি আমাদের ডিজিএম স্যারকে জানালে ভালো হয়।
এ ব্যাপারে নবীনগর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, হেলে পড়া বৈদ্যুতিক খুঁটির বিষয়টি এর আগে কেউ আমাকে অবগত করেননি। আমি আজকেই আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। তিনি আরো বলেন, জুন মাসের ক্লোজিং শেষ হলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে খুঁটিটি মেরামত বা প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।