প্রকাশ: রোববার, ২৮ জুন, ২০২৬, ২:৪০ পিএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে প্রকাশ্য দিবালোকে যুবক রজব আলী (২৬) হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাজপথ। আজ রোববার সকালে নিহতের মহল্লা মসজিদপাড়ার অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলে অংশ নেওয়া ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী পলাতক প্রধান আসামি জিশানকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা হাসপাতালের মোড় থেকে এই বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বড়ইন্দারা মোড়ে এসে শেষ হয়। এরপর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সেখানে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন এবং অনতিবিলম্বে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিক্ষোভ চলাকালীন হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের বাবা নজরুল ইসলাম। তিনি মামলার প্রধান আসামি জিশানের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করে বলেন, গত বুধবার দুপুরে একই মহল্লার মো. জিসান (২৪) ও মো. মেহেদী (২৪) প্রকাশ্য দিবালোকে জেলা হাসপাতাল সংলগ্ন পদ্মা ক্লিনিকের সামনে আমার ছেলে রজব আলীকে (২৬) ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। এ সময় মেহেদী রজবকে ধরে রাখে আর জিসান বুকে ছুরি মারে। লোকজন রজবকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় সদর থানায় ওই দুজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে। মেহেদীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও মূল ঘাতক জিশান এখনো পলাতক থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। হত্যাকাণ্ডের পর একজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও মূল অপরাধীকে ধরতে পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরামুল হোসাইন জানান, মামলার একজন আসামিকে (মেহেদী) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামি জিশানকে গ্রেপ্তারের জোর প্রচেষ্টা চলছে। আশা করছি শিগগিরই সে পুলিশের খাঁচায় ধরা পড়বে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার দুপুরে বন্ধুদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে মাদকাসক্ত জিশান ও মেহেদী নির্মমভাবে রজব আলীকে হত্যা করে। ঘটনার দিন রাতেই মেহেদী গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও, মূল হত্যাকারী জিশান গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার ও মসজিদপাড়ার বাসিন্দারা।
জ/দি