বিনোদন অঙ্গনে প্রায় তিন দশক ধরে কাজ করে আসছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। দেশের পাশাপাশি ভারতের কলকাতার চলচ্চিত্রাঙ্গনেও তিনি নিয়মিত কাজ করছেন এবং অর্জন করেছেন নানা স্বীকৃতি ও পুরস্কার।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জয়া আহসান জানান, মাছ-মাংস খেতে তার ভালো লাগে না। এ বিষয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, এসব খাবার খেতে গেলে তার মনে হয় কোনো প্রাণীর জীবনহানির বিষয়টি জড়িত রয়েছে।
জয়ার এই মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিনেত্রী ইলোরা গহর। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জয়া আহসান দীর্ঘদিন ধরে দুই বাংলার চলচ্চিত্রে সফলতার সঙ্গে কাজ করছেন এবং নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন।
খাদ্যাভ্যাস প্রসঙ্গে ইলোরা গহর বলেন, নিরামিষ বা আমিষ খাদ্য গ্রহণ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। তবে তিনি মনে করেন, মাছ-মাংস খাওয়ার বিষয়টিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা উচিত নয়, যাতে সাধারণ মানুষের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতায় মাছ-মাংস মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এ ধরনের বিষয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে ইলোরা গহর সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে আরও বেশি কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, বিভিন্ন সময় তিনি অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সচেতনতা ও সহমর্মিতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জয়া আহসানের উদ্দেশে ইলোরা গহর বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে জয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও স্নেহশীল। জয়ার প্রকৃতিপ্রেম, গাছপালা ও প্রাণীর প্রতি ভালোবাসার প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রত্যেকের নিজস্ব মত ও জীবনধারা থাকতে পারে। তবে ভিন্ন মত বা জীবনাচার প্রকাশের ক্ষেত্রে এমন ভাষা ব্যবহার করা উচিত, যা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।
উল্লেখ্য, জয়া আহসানের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ও মতামত দেখা গেছে। বিষয়টি মূলত ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস, প্রাণীকল্যাণ এবং সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে ভিন্নমতের প্রতিফলন হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
জ/উ