যৌথ নদী কমিশনে পদায়নে একাধিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১০:৪৮ এএম

যৌথ নদী কমিশনে (জেআরসি) বাংলাদেশের পক্ষে সদস্য হিসেবে পদায়িত হয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনোয়ার কাদির। তার এই পদায়নে নজিরবিহীন তদবিরের অভিযোগ উঠেছে। এটি করতে গিয়ে একাধিক নিয়ম ভাঙা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠছে। এই পদায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) প্রধান প্রকৌশলী ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীসহ ২৩ জনকে ডিঙিয়ে যাওয়া হয়েছে। 

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩ জুন যৌথ নদী কমিশনে (জেআরসি) নিয়োগ বিধিসংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়। নিয়োগ বিধিতে জেআরসির ‘সদস্য’ পদের যোগ্যতা হিসাবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রকৌশল ডিগ্রি ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সরকারের যুগ্ম সচিব বা প্রধান প্রকৌশলী বা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে কর্মরত কর্মকর্তাকে পদায়নের কথা বলা হয়েছে। অথচ এই নিয়োগ বিধি লঙ্ঘন করে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদটিতে আনোয়ার কাদিরকে বসানো হয়। 

যে আবুল হোসেনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তিনি পাউবোতে একজন সৎ ও মেধাবী প্রকৌশলী হিসাবে পরিচিত। তিনি সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ‘প্লাইমাউথ ইউনিভার্সিটি’ থেকে মাস্টার্স ও অস্ট্রেলিয়ার ‘ইউনিভার্সিটি অব সাউথ অস্ট্রেলিয়া থেকে আন্তঃনদী পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে’ পিএইচডি করেন।

আরও পড়ুন : এনইসি সভায় সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী

জানা যায়, আনোয়ার কাদিরকে নিয়োগ দিয়ে জেআরসিতে কর্মরত সিনিয়র একাধিক কর্মকর্তাকে রীতিমতো অপমান করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে একজন কর্মকর্তা বলেন, এর আগে আনোয়ার কাদির জেআরসিতে নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন। সেখানে পরিচালক আবু সাঈদের অধীনে তিনি কাজ করতেন। এই কর্মকর্তার এসিআর (বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন) নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদোন্নতি পেয়েছেন। এখন তাকেই আবু সাইদের সিনিয়র করে জেআরসিতে পোস্টিং দেওয়া হয়। বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি আবু সাইদ।

পাউবো কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেআরসির সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ এ বছরই শেষ হচ্ছে। তিস্তা ও ফেনী চুক্তির খসড়া স্বাক্ষরিত হয়েছে ২০১১ সালে। কুশিয়ারা নদীর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে ২০২২ সালে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশ ৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ প্রদান করবে। এটা বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ ১৫৩ কিউসেক পানি পাবে শুষ্ক মৌসুমে। এরকম সংকটময় ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জেআরসিতে অনভিজ্ঞ সদস্য নিয়োগ দেওয়া ঠিক হবে না। কারণ পানি বণ্টনের ন্যায্য হিস্যা আদায়ে প্রতিবেশী দেশকে আন্তর্জাতিক আইনকানুন দিয়েই চেপে ধরতে হয়। বাংলাদেশের প্রতিনিধিকে এসব বৈঠকে সাহসের সঙ্গে কথা বলতে জানতে হবে।

আরও পড়ুন : ২৩ জনকে ডিঙিয়ে যৌথ নদী কমিশনে সদস্য নিয়োগ

পাউবোর একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, নিয়মানুযায়ী দ্বিতীয় ও তৃতীয় গ্রেডের সংস্থা প্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টা বা প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি লাগে। বিগত সরকারের সময় এই পদায়নের ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি।

এ বিষয়ে মো. আনোয়ার কাদির বলেন, ‘তদবির করে আমি এখানে আসিনি। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জেআরসির সদস্য পদে বদলির পরই বিষয়টি আমি জানতে পারি। এখানে যেরকম সরকারি দায়িত্ব পালন করছি, একই ভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডেও একই কাজ করতে হয়েছে আমাকে।’

জ/দি

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft