জাসদ সভাপতি ও মিতা ফিলিং স্টেশন মালিকের কটূক্তি; নেপথ্যে শতকোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:১৭ পিএম

সাংবাদিকদের নিয়ে জনসম্মুখে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে বেদগ্রামস্থ মিতা ফিলিং স্টেশনের মালিক এবং জাসদ (ইনু) সভাপতি শেখ মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
জানা গেছে, ওই রাতে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোবাইলে ফোন করে জাসদ সভাপতি মাসুদকে বলেন জনৈক সাংবাদিককে পেট্রোল দেয়ার জন্য। পরবর্তীতে ওই সাংবাদিক তেল আনতে গেলে শেখ মাসুদুর রহমান উপস্থিত লোকজনের সামনে অত্যন্ত উদ্ধতভাবে বলেন, "গোপালগঞ্জের সাংবাদিকরা ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিয়ে তা বিক্রি করে দেয়।" এ সময় তিনি নিজেকে গোপালগঞ্জের 'বড় সাংবাদিক' হিসেবেও পরিচয় দেন। সাংবাদিকদের সম্পর্কে এমন মিথ্যা ও কটূক্তিমূলক বক্তব্যে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মাসুদুর রহমান এক সময় প্রেসক্লাবের সভাপতিও ছিলেন। বর্তমানে তিনি গোপালগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সেক্রেটারি।
অভিযুক্ত শেখ মাসুদুর রহমান জেলা শহরের বেদগ্রাম এলাকার আ: রউফ মাস্টারের ছেলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৪ দলীয় নেতা হওয়ার সুবাদে এবং তৎকালীন প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তিনি ঠিকাদারি ও সমবায়সহ বিভিন্ন খাত থেকে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সিদ্দিক সিকদার এবং সাবেক মেয়র ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী লিয়াকত আলীর ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন বলেও জানা যায়।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বহু বছর আগে শেখ মাসুদুর রহমান 'দৈনিক জনতা' পত্রিকার কার্ডধারী সাংবাদিক ছিলেন। ওই কার্ড সম্বল করে তিনি এক সময় একটি বিতর্কিত প্রেসক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মিতা ফিলিং স্টেশন করার জন্য তিনি বেদগ্রাম মোড়ের একটি সরকারি জমি লিজ নিয়েছিলেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, ফিলিং স্টেশনের পাশাপাশি তিনি ওই জায়গার চারপাশ দিয়ে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণ করে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা ভাড়া তুলছেন। এছাড়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের একটি কক্ষ বরাদ্দ নিয়ে জাসদ কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। গত ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যখন অনেক বিতর্কিত নেতা আত্মগোপনে চলে যায় তখন শেখ মাসুদুর রহমান কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং তার ক্ষমতার উৎস কোথায়-তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সাংবাদিক সমাজ এই মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের কাছে তার অবৈধ সম্পদ ও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য শেখ মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে গণমাধ্যমের বিভিন্ন শাখায় লেখালেখি হলেও স্থানীয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যাবস্থা নেয়নি।
জ/দি