স্মার্টগ্লাস: প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ, নাকি ‘গোপন নজরদারির’ নতুন ভয়?
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৫০ পিএম

প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে স্মার্টগ্লাস। কেউ বলছেন এটি ভবিষ্যতের কম্পিউটিং ডিভাইস, আবার কেউ একে আখ্যা দিচ্ছেন ‘পারভার্ট গ্লাস’, অর্থাৎ গোপনে অন্যকে নজরদারির হাতিয়ার। সম্প্রতি এক সাংবাদিকের অভিজ্ঞতা এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

মেটার তৈরি স্মার্টগ্লাস ব্যবহার করে এক মাস কাটানোর অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে সম্ভাবনা ও শঙ্কার এক মিশ্র চিত্র। এই স্মার্টগ্লাসে যুক্ত রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সহকারী, যার কণ্ঠ দেওয়া হয়েছে জুডি ডেঞ্চ
-এর আদলে। ব্যবহারকারীকে এটি আবহাওয়া জানানো, দিকনির্দেশনা দেওয়া, ছবি তোলা, এমনকি চোখের সামনে দেখা জিনিস শনাক্ত করার মতো কাজেও সাহায্য করে।

স্মার্টফোনের বিকল্প হতে চায় স্মার্টগ্লাস
প্রতিষ্ঠানটির সিইও মার্ক জুকারবার্গ মনে করেন, আগামী এক দশকে স্মার্টগ্লাসই হয়ে উঠবে আমাদের প্রধান কম্পিউটিং ডিভাইস। ইতোমধ্যে ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ৭ মিলিয়নের বেশি স্মার্টগ্লাস বিক্রি হয়েছে।

রে-ব্যান-এর সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি এই ডিভাইসগুলো দেখতে সাধারণ চশমার মতো হলেও এতে রয়েছে ক্যামেরা, স্পিকার এবং ভয়েস-নিয়ন্ত্রিত এআই সহকারী।

সুবিধার পাশাপাশি অস্বস্তিও
স্মার্টগ্লাস ব্যবহার করে সহজেই ছবি বা ভিডিও ধারণ করা যায়। তবে এই সুবিধাই তৈরি করছে বড় উদ্বেগ। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, কেউ অজান্তেই তাদের ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে পারে।

ব্যবহারকারীর আশেপাশের মানুষদের মধ্যে এই ডিভাইস নিয়ে অস্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই সরাসরি প্রশ্ন করেন— ‘আপনি কি আমাকে রেকর্ড করছেন?’

গোপনীয়তা নিয়ে বড় প্রশ্ন
গোপনে ভিডিও ধারণ এবং ব্যক্তিগত মুহূর্ত ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনকি রিপোর্টে উঠে এসেছে, কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের ধারণ করা ব্যক্তিগত ভিডিও কনটেন্টও পর্যালোচনা করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি এখনও যথেষ্ট নিয়ন্ত্রিত নয় এবং আইনগত কাঠামোও স্পষ্ট নয়। ফলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

এআই সহকারী: সম্ভাবনা আছে, সীমাবদ্ধতাও
স্মার্টগ্লাসের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর এআই সহকারী। এটি ব্যবহারকারীর দেখা জিনিস শনাক্ত করতে পারে, লেখা পড়ে শোনাতে পারে, এমনকি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য সহায়ক হিসেবেও কাজ করতে পারে।

তবে বাস্তবে এর পারফরম্যান্স সবসময় নির্ভরযোগ্য নয়। অনেক সময় ভুল বোঝে, অসম্পূর্ণ তথ্য দেয় বা কাজ শেষ করতে পারে না। যা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে বাধাগ্রস্ত করে।

অনুবাদ ফিচারেও হতাশা
রিয়েল-টাইম অনুবাদ সুবিধা থাকলেও তা সবসময় কার্যকর নয়। বাস্তব পরিস্থিতিতে এটি অনেক সময় ধীরগতির এবং বিভ্রান্তিকর ফল দেয়, যা সাধারণ অনুবাদ অ্যাপের তুলনায় কম কার্যকর।

প্রযুক্তি না কি সামাজিক ঝুঁকি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টগ্লাস এখনও এমন কোনও ‘অপরিহার্য ব্যবহার’ তৈরি করতে পারেনি, যা মানুষকে এটি কিনতে বাধ্য করবে। বরং এটি সামাজিক আচরণ, গোপনীয়তা এবং প্রযুক্তির সীমা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে।

কেউ কেউ বলছেন, এটি ভবিষ্যতে সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে-বিশেষ করে প্রতিবন্ধীদের জন্য। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এটি এখনও ‘অতিরিক্ত’ প্রযুক্তি হিসেবেই রয়ে গেছে।

স্মার্টগ্লাস নিঃসন্দেহে প্রযুক্তির এক নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। কিন্তু এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে গোপনীয়তা, নৈতিকতা এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে- শুধু নতুন ডিভাইস তৈরি করলেই হবে না, সেটি সমাজ কতটা গ্রহণ করতে প্রস্তুত, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft