প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৭:০৩ পিএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় হামের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলা হাসপাতালে বর্তমানে হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে ৭৪ শিশু। গত তিন মাস ধরে সংক্রমণ শুরু হলেও সম্প্রতি তা ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, গত কয়েক বছরে শিশুদের নিয়মিত হামের টিকা না দেওয়াই এই বর্তমান পরিস্থিতির প্রধান কারণ। মহামারি আকার ধারণ করা এই রোগ নিয়ন্ত্রণে শিশুদের দ্রুত টিকাদান এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৬ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৭৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩০ জন নতুন রোগী আসায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। জেলায় এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মাহফুজ রায়হান জানান, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ যা হাঁচি, কাশি এবং সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়।
তিনি বলেন, এটা গত তিন মাস থেকেই প্রাদুর্ভাবটা শুরু হয়েছে। একটা বাচ্চা থেকে প্রায় ২০-২৫ টা বাচ্চার মধ্যে এটি ছড়াতে পারে। আগে 'হার্ড ইমিউনিটি' থাকায় সংক্রমণ কম ছিল, কিন্তু গত ৪-৫ বছরে অনেক শিশু টিকা না নেওয়ায় এবার এটি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।
চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, করোনা পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টিকার বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণার কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের টিকা দেননি।
ডা. মাহফুজ রায়হান আরও বলেন, সামাজিক অনেক ইস্যু হয়েছে, করোনার পরে অনেকে টিকা নেওয়াটাকে ভীতি হিসেবে দেখছে। সোশ্যাল মিডিয়ার নেগেটিভ প্রচারণার কারণেই হয়তো অভিভাবকরা টিকা দেননি, যার ফলে আজ এই অবস্থা।
হাম প্রতিরোধে ৯ মাস এবং ১৫ মাস বয়সে সরকারিভাবে বিনামূল্যে হামের টিকা দেওয়া হয়। টিকা দেওয়া থাকলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি মাত্র ৩ শতাংশ এবং আক্রান্ত হলেও জটিলতা অনেক কম থাকে। তবে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের যেহেতু টিকার সুযোগ নেই, তাদের সুরক্ষায় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। চিকিৎসকদের পরামর্শে আক্রান্ত শিশুদের থেকে সুস্থ শিশুদের সম্পূর্ণ আলাদা রাখা। অপ্রয়োজনে জনসমাগম বা বাজারঘাটে শিশুদের না নেওয়া। হাসপাতালে ভিড় এড়াতে ছোটখাটো অসুস্থতায় টেলিমেডিসিন বা ফোনের মাধ্যমে পরামর্শ নেওয়া।