প্রকাশ: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৮ পিএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক বৃদ্ধ ও তার তিন ছেলেকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত রবিবার বিকেলে পুলিশ অভিযুক্ত প্রধান আসামির দোকানঘর থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।
গত ২৪ মার্চ বিকেলে উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের হারুয়া বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মো. আবুল কাশেম ফকির (৫৫) ও তার তিন ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (২৮), জাকির (২২) এবং শাকিল (২০)-এর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও লোহার রড দিয়ে তাদের এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য আবুল কাশেম ফকির ও তার ছেলে জাকিরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। এই ঘটনায় গত ২৬ মার্চ জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- কুমড়াশসন গ্রামের মো. বকুল ভূঞা (৪৫), মো. তফাজ্জল (৩৫), আশিক (২৩), মো. কাউসার (২২), মামুন (২৯), হুমায়ূন ফকির (৩৬), সেলিম ফকির (৩২) এবং তৈয়ব আলী ফকির (৪৭)।
লিখিত অভিযোগের পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জ থানার এসআই ফিরোজ মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল প্রধান আসামি বকুল ভূঞার একটি দোকানঘরে অভিযান চালায়। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
আহত জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "বকুল ভূঞা ও তার লোকজন অত্যন্ত উগ্র প্রকৃতির। তারা আমাদের হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা চালিয়েছে। আমরা এই সন্ত্রাসী হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।"
তবে এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত বকুল ভূঞার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।