প্রকাশ: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৮:৩৫ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রভাব এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের জেরে গতকাল মঙ্গলবার দুই দফায় সংঘর্ষে দুই জন নিহত এবং কমপক্ষে অর্ধশত মানুষ আহত হয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সকাল ১০টা থেকে সংঘর্ষ চলছিল, এবং দুর্গম এলাকা হওয়ায় পুলিশ পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে তল্লাশি ও জাল ভোটের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা এক কর্মকর্তাকে প্ররোচনার অভিযোগে রহিম মিয়ার সমর্থক জিয়া মিয়াকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন। এই ঘটনার জন্য রহিম মিয়ার সমর্থকরা কাশেম মিয়ার পক্ষকে দায়ী করেন।
স্থানীয়রা জানায়, জিয়া মিয়া জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ১৭ মার্চ এলাকায় আসার সঙ্গে সঙ্গে রহিম ও কাশেম মিয়ার পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকেই এই বিরোধ পূর্ণাঙ্গ রূপ নিলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে, এবং ঘটনাস্থলেই আক্তার মিয়া (৪৫) ও মাওলানা হাবিবুল ইসলাম (৩৫) নিহত হন। হাবিবুল ইসলাম ছিলেন গোয়ালনগর ইউনিয়ন ইসলামিক ফ্রন্টের সভাপতি।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের নাসিরনগর সদর, কিশোরগঞ্জ অষ্টগ্রাম এবং ভৈরবের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, দুই পক্ষই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে হাতাহাতি করতে শুরু করেছে, কিন্তু এতে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের এলাকায় নিরাপত্তাহীনতার পরিস্থিতি আরও বাড়ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুর রউফ নিশ্চিত করেছেন, সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। দুর্গম হাওর পথের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নাসিরনগরের এই ঘটনা নির্বাচনী উত্তেজনা ও স্থানীয় শক্তি-বিতর্কের মারাত্মক প্রতিফলন। দীর্ঘদিন ধরে বিরোধের কারণে সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা হ্রাস পেয়েছে। তারা উল্লেখ করেন, এই ধরনের সংঘর্ষ শুধু ভোটের দিন নয়, বরং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।