মাদারীপুরের কালকিনিতে ঈদ শপিং করে দেবার কথা বলে প্রেমিকাকে ডেকে এনে গলা কর্তনের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এ ঘটনায় আহত প্রেমিকাকে হাসপাতালে রেখে কৌশলে পালিয়ে যায় কথিত প্রেমিক বায়জিদ ও তার খালা তমা। শনিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে কালকিনি উপজেলার ভুরঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
কথিত প্রেমিক বায়জিদ কালকিনি পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের দক্ষিন ঠেংগামারা গ্রামের আবুল কালাম সরদারের ছেলে। আর গুরুতর আহত প্রেমিকার নাম নুসরাত জাহান ফিহা (২০)। সে কালকিনি উপজেলার পশ্চিম শিকারমঙ্গল গ্রামের সাইদ বেপারীর মেয়ে।
আহতের পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার প্রেমিক বায়জিদের সাথে মেসেঞ্জারে কথা হয় প্রেমিকা ফিহার। এসময় তাকে শপিং করে দেয়ার কথা বলে দেখা করতে বলে প্রেমিক বায়জিদ। পরে পরিবারের কাছে মিথ্যা বলে বাড়ি থেকে বিকেল ৫ টার দিকে বের হয় ফিহা। পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে প্রেমিক বায়জিদের সাথে দেখা করলে তাদের মাঝে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে ফিহার গলা ও পেটে আঘাত করে বায়জিদ।এতে প্রিয়ার গলার এক তৃতীয়াংশ কেটে যায় এবং পেটে সামান্য ক্ষত হয়।
পরবর্তীতে বায়জিদ তার খালা তমাকে সাথে নিয়ে গুরুতর আহত ফিহাকে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেলে রেখে কৌশলে পালিয়ে যায়। এসময় তারা ফিহার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও নিয়ে যায়। পরে ফিহার বাবা-মাকে হাসপাতাল হতে খবর দেয়া হলে তারা এসে ফিহাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নিয়ে যায়।
কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ ওয়াহিদুজ্জামান জানান,"রাত ৮ টার দিকে একজন গলা কাটা রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।রোগীর গলার এক তৃতীয়াংশ কেটে গিয়েছে।আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করেছি।"
ফিহার মা জানান,"আমাদের দুই ছেলের ভিতরে একজন ইতালী প্রবাসী এবং এক ছেলে পুলিশে চাকুরী করে।সে শরীয়তপুর আছে। আমার মেয়েকে নিয়ে আমরা বাড়িতে থাকি। শনিবার ইফতারের কিছু সময় আগে ফিহা শপিং করার কথা বলে বাড়ি হতে একা বের হয়। পরে রাত ৮ টার দিকে হাসপাতাল হতে ফোন পেয়ে এসে দেখি আমার মেয়ের গলা কেটে ফেলেছে বায়জিদ।আমরা ওর শাস্তি চাই।"
ফিহার বাবা সাইদ সরদার বলেন,"আমরা এখন মেয়েকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা নিয়ে যাচ্ছি। এসে বায়জিদের বিরুদ্ধে মামলা করবো।"
এ বিষয়ে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল আলম বলেন,"ঘটনাটি শুনেছি।তবে এবিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।"
জ/দি