আ.লীগের সুবিধাভোগী কবিরের দাপটে ভোটবিহীন বাফা
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৮:২২ পিএম আপডেট: ১১.০৩.২০২৬ ৮:৫২ পিএম

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনে (বাফা) দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা একচ্ছত্র আধিপত্য, আর্থিক লুটপাট এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার ভয়াবহ চিত্র এবার সামনে এসেছে। এক্ষেত্রে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি কবির আহমেদের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট সরকারের উচ্চপর্যায়ের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে বাফাকে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এবং এজিএম (অএগ) ছাড়াই অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে রাখার মাধ্যমে কবির আহমেদ শতকোটি টাকা লোপাট করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, কবির আহমেদ নিজেকে তৎকালীন যুবলীগ সভাপতির নিকটাত্মীয় এবং “আওয়ামী বাফা ক্যাডার” হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ সদস্যদের মধ্যে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। এই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি সরকারি মেগা-প্রকল্পগুলোতে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে জানান আনোয়ার হোসেন নামের একজন ব্যাবসায়ী।

ব্যাবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ধারা ৮১ অনুযায়ী প্রতি বছর বার্ষিক সাধারণ সভা (অএগ) করা বাধ্যতামূলক হলেও বাফায় গত ৭ বছর ধরে কোনো এজিএম হয়নি। আদালতের পক্ষ থেকে এজিএম আয়োজন এবং কবির আহমেদকে সভাপতির পদ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিলেও তিনি তা তোয়াক্কা করেননি। পরপর তিনটি আদালতের আদেশ কৌশলে অমান্য করে তিনি পদ আঁকড়ে ধরে ছিলেন।

কোভিড প্রণোদনা জালিয়াতির অভিযোগ
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো একজন ব্যাবসায়ী বলেন. সাধারণ সদস্যদের সম্মতি ছাড়াই কয়েক কোটি টাকা নিজের অনুগতদের মধ্যে বিতরণ করেছেন কবির আহমেদ। যার কোনো অডিট বা হিসাব আজও পাওয়া যায়নি। এছাড়াও ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে উত্তরায় ভবন ক্রয় করা হলেও তা সদস্যদের অনুমোদিত ছিল না। এটিকে ‘বাফা টাওয়ার’ নাম দিয়ে সাধারণ সদস্যদের জন্য নিষিদ্ধ করে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর ‘প্রাইভেট ক্লাবে’ রূপান্তর করা হয়েছে।

আরেক ব্যাবসায়ী জানান, মাত্র ১০ কোটি টাকা ফান্ড থাকা সত্ত্বেও সদস্যদের মতামত না নিয়ে ৩১ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রয়ের চুক্তি (বায়নামা) করেন এবং ৬ কোটি টাকা অগ্রিম প্রদানের নামে তা আত্মসাৎ করেন। বনানী ও উত্তরা অফিসের সাজসজ্জা এবং পরিষ্কারের নামে কবির আহমেদ তার নিকটাত্মীয় শিপনের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি টাকা খরচ দেখিয়েছেন, যেখানে কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয়নি।

কবির আহমেদের মালিকানাধীন নিজস্ব কোম্পানির বিরুদ্ধে বৈদেশিক মুদ্রা লোপাটের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তার ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং লাইসেন্স বাতিল করেছিল। তবে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেন। বাফা সদস্যদের প্রশিক্ষণের জন্য সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ফি ৩৫,০০০ টাকা হলেও কবির আহমেদ সদস্যদের কাছ থেকে ৮৬,২৫০ টাকা করে আদায় করতেন। অথচ বাফার তহবিলে জমা হতো মাত্র ৫,০০০ টাকা। বাকি টাকা কোথায় গেলো তার কোনো হদিস নেই।

অপরদিকে, গত ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ব্রাসেলসসহ বিভিন্ন দেশে ‘পিকনিক স্টাইলে’ সফরের নামে সংগঠনের ২০ লাখের বেশি টাকা অপচয় করার অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল সদস্যরা দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে কবির আহমেদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বাফার লুটের টাকা উদ্ধার করে একটি স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন পেশাদার ব্যবসায়ীরা।

তবে ব্যাবসায়ীরা বলেন, তার বিদেশ যাবার উপর প্রথমে নিষেধাজ্ঞা দেয়া উচিৎ, কারণ সে পালানোর চেষ্টায় আছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কবির আহমেদ তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ব্যাবসায়ীক কারণে অনেকের সাথে যোগাযোগ ছিল, কিন্তু তিনি আওয়ামী লীগের রাজনিতির সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না বলে জানান তিনি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


Also News   Subject:  অপরাধ   বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন   ভোট   আদালত   নিষেধাজ্ঞা  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft