প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১:২৫ পিএম

ভারতে পেট্রোল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ফের মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। উত্তর প্রদেশের রায়বরেলিতে এক জনসভায় তিনি বলেন, জনগণকে আশ্বস্ত করার পরও সরকার ধারাবাহিকভাবে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। একইসঙ্গে শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি ও বড় শিল্পগোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাহুল গান্ধী দাবি করেন, রাশিয়া থেকে কম দামে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে তা বিদেশে বিক্রি করা হচ্ছে এবং এ প্রক্রিয়ায় বিপুল মুনাফা অর্জিত হচ্ছে। সেই অর্থের একটি অংশ রাজনৈতিক তহবিলে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রাহুল বলেন, সরকার আগে জানিয়েছিল দেশে গ্যাস ও পেট্রোলের কোনো সংকট নেই। কিন্তু বাস্তবে একের পর এক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে। কৃষক, শ্রমজীবী, নিম্ন আয়ের মানুষ ও মধ্যবিত্ত পরিবার সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের সম্পদ ধীরে ধীরে কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। রাশিয়া থেকে কম দামে তেল আমদানির সুযোগ কাজে লাগিয়ে বড় অঙ্কের মুনাফা করা হচ্ছে। সেই অর্থ কোথায় ব্যবহার হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাহুল গান্ধীর এ বক্তব্য ঘিরে ভারতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন নেতারা কংগ্রেসের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন। তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামার কারণেই দেশে জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের নীতির কারণে ভারত বিভিন্ন দেশ থেকে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
জনসভায় রাহুল গান্ধী আরও বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়ছে। রান্নার গ্যাস, পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে উঠেছে। অথচ সরকার জনগণের বাস্তব সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচন পরবর্তী সময়েও কংগ্রেস মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে সামনে রাখতে চাইছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল বিরোধীদের অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ হিসেবে বর্ণনা করছে। ফলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
রাহুল গান্ধীর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। কেউ এটিকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ একে নির্বাচনি রাজনীতির অংশ হিসেবে মন্তব্য করছেন।
জ/উ