প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৩:০২ এএম আপডেট: ১১.০৩.২০২৬ ৮:১০ পিএম

নেশার টাকা জোগাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগে নেত্রকোণার মদন উপজেলায় বাবা ও ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (৮ মার্চ) রাতে মদন পৌরসভার শ্যামলী রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মধ্যবাজার এলাকার বাসিন্দা বরুণ চন্দ্র কর্মকার (৪৫) ও তার ছেলে তরুণ চন্দ্র কর্মকার (২২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের পরিচ্ছন্ন কর্মী অমূল্য চন্দ্র দাসের মেয়েকে বিয়ে করেন তরুণ চন্দ্র কর্মকার। বিয়ের কিছুদিন পর স্ত্রী ও বাবাকে নিয়ে তিনি মদনে বসবাস শুরু করেন। পরে শ্বশুরবাড়ির কাছেই শ্যামলী রোড এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন তারা। তরুণের বাবা বরুণ চন্দ্র কর্মকার স্থানীয় একটি স্বর্ণের দোকানে কাজ করতেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে নেশার টাকা জোগাড় করতে বরুণ ও তার ছেলে তরুণ মিলে শ্বশুর অমূল্য চন্দ্র দাসের বাড়ি থেকে প্রায় লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যান। পরে রোববার রাতে আবারও একই উদ্দেশ্যে শ্বশুরবাড়িতে ঢুকে স্বর্ণালংকার নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন তারা।
এ সময় স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবা-ছেলেকে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা নেশার টাকার জন্য চুরির কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।
বরুণ চন্দ্র কর্মকার বলেন, টাকার চাপে পড়ে স্বর্ণালংকার নিয়ে বিক্রি করেছেন। তিনি স্বীকার করেন, এটি করা তাদের ঠিক হয়নি।
তরুণ চন্দ্র কর্মকার জানান, তিনি আগে নেশা করতেন, তবে এখন আর করেন না বলে দাবি করেন। তার বাবার সঙ্গে মিলে শ্বশুরবাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার নেওয়ার ঘটনাকে তিনি ভুল বলে স্বীকার করেন।
ভুক্তভোগী অমূল্য চন্দ্র দাস বলেন, তার মেয়ের জামাই ও শ্বশুর দুজনই নেশাগ্রস্ত। যথাযথ খোঁজখবর না নিয়ে মেয়ের বিয়ে দেওয়াটা তার ভুল হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, চুরির অভিযোগে বাবা ও ছেলেকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।