শ্রীপুরে সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু, হাসপাতালে ভাঙচুর
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৩:৪৫ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের পর রুমা আক্তার (২৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনাও ঘটে। ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

সোমবার (৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিম খণ্ড গ্রামের মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত লাইফ কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রুমা আক্তার শ্রীপুর পৌরসভার উজিলাব এলাকার মানিক মিয়ার স্ত্রী। তাদের ঘরে ১০ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। রুমা শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের হেরা পটকা গ্রামের আব্দুর রশিদের মেয়ে।

স্বজনদের অভিযোগ, প্রসববেদনা উঠলে শনিবার (৭ মার্চ) দিবাগত রাত ২টার দিকে রুমাকে লাইফ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার (৮ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রসূতির সঙ্গে স্বজনদের দেখা করতে দেয়নি। এতে সন্দেহ হলে স্বজনেরা অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করে রুমাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন।

আরও পড়ুন : নৌবাহিনীর অভিযানে টেকনাফে সাড়ে ১১ কোটি টাকার ইয়াবা জব্দ

রুমার স্বামী মানিক মিয়া অভিযোগ করেন, চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে রুমার বাবা আব্দুর রশিদ বলেন, সিজারের পর দীর্ঘ সময় রোগীকে তাদের কাছে দেওয়া হয়নি। পরে রোগীর অবস্থা খারাপ হলে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে উত্তরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক রুমাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে তারা জানতে পারেন।

প্রসূতির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সোমবার সকাল থেকে স্বজন ও স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। এ সময় অপারেশন থিয়েটারসহ ভবনের বিভিন্ন কক্ষ ভাঙচুর করা হয়। একই সঙ্গে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিক্ষুব্ধ লোকজন মাওনা–কালিয়াকৈর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলা এ বিক্ষোভে সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

আরও পড়ুন : ছিনতাই হওয়া অটোরিকশার পেছনে দৌড়াতে গিয়ে ট্রাকচাপায় কিশোরে মৃত্যু

লাইফ কেয়ার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজাহারুল ইসলাম পারভেজ দাবি করেন, ভাঙচুরের ঘটনায় হাসপাতালের প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ক্যাশ থেকে নগদ প্রায় ২০ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ রয়েছে যে সিজারের পর রোগীর ফলোআপের জন্য ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও হাসপাতালে তা ছিল না। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে নবজাতকের অবস্থাও সংকটাপন্ন। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম বলেন, স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার কারণেই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও চিকিৎসকের সংকট রয়েছে এবং এর বৈধ লাইসেন্সও নেই বলে জানা গেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় হাসপাতালটি সিলগালা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও স্বজনদের বাধার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে তা সম্ভব হয়নি।

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft