প্রকাশ: রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১০ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বালু সন্ত্রাসীদের হামলায় প্রায় ১৭ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল ও নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরে আলম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলার খবর পেয়ে নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিয়াস বসাক ও নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এলাকার পরিস্থিতি এখন থমথমে রয়েছে। তবে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলটি পুলিশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
জানা যায়, মেঘনা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে অর্ধশতাধিক ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে নদীতীরবর্তী চরলাপাং গ্রামসহ আশপাশের গ্রামগুলোর বিভিন্ন স্থাপনা নদীভাঙনের কবলে পড়ে। গ্রামবাসী বারবার এর প্রতিবাদ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না। গ্রামবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাঝে মাঝে প্রশাসন বালু সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। কিন্তু কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর আবারও নদী থেকে বালু উত্তোলন শুরু হয়। গ্রামবাসীর অভিযোগ, প্রতিটি ড্রেজারে থাকা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা চররাপাং গ্রামের জমি থেকে তাদের ফসল জোরপূর্বক কেটেও নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীরা জানান, সামিউল ট্রেডার্সের ইজারা নেওয়া বালুমহালের লোকজন নিয়ম বহির্ভুতভাবে ফসলি জমি থেকে বালু উত্তোলন করতে এলে গ্রামের জনসাধারণ বাধা দিলে তাদের উপর সন্ত্রাসী বাহিনী গুলি ছোড়ে। তারা আরো বলেন, নবীনগর উপজেলায় বিএনপির দুই গ্রুপের অনেকেই এই বালুমহালের সঙ্গে জড়িত। আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত। বর্তমান এমপির কাছে আমরা এর প্রতিকার চাই।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পার্শ্ববর্তী উপজেলার লোকজন স্পিডবোটে এসে গুলাগুলি করে তারপর আবার তারা চলে যাওয়ার ফলে আমরা অভিযুক্ত কাউকে এখনো গ্রেফতার করতে পারিনি।
নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, ঘটনাটি শুনার পরপরই আমি বিষয়টি ডিসি ও এসপি স্যারকে অবগত করেছি। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় আমরা এমন কিছু করতে চাই, যাতে এমন ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
এ বিষয়ে নবীনগরের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, ঘটনার পরপরই আমি প্রশাসনকে বালু সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি এবং আমি কোন লোক দেখানো অভিযান দেখতে চাই না, আমি প্রশাসনের কার্যকরী ব্যবস্থা দেখতে চাই। এরপরও প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে আমি এই বিষয়টি আগামীতে সংসদে তুলে ধরবো।