ভুল স্বাস্থ্য তথ্য দিয়ে চাপে এআই
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৩৬ পিএম

দিন দিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। রান্নার রেসিপি থেকে শুরু করে গলা ব্যথা-সব প্রশ্নের উত্তরই এখন অনেকেই খুঁজছেন এআইয়ের কাছে। বিশেষ করে সার্চ ইঞ্জিনে দেওয়া এআই-ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত সারাংশের ওপর ভরসা করছেন ব্যবহারকারীরা। আলাদা আলাদা ওয়েবসাইটে না গিয়ে সরাসরি এআইয়ের দেওয়া উত্তরের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন অনেকে। তবে এ প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে এআই ভুল বা বিভ্রান্তিকর স্বাস্থ্য তথ্য দিচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, লিভার ফাংশন টেস্ট সংক্রান্ত এক অনুসন্ধানে গুরুতর সংক্রমণের ইঙ্গিত থাকা সত্ত্বেও ফলাফলকে ‘স্বাভাবিক সীমার মধ্যে’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। এতে রোগী ভুলভাবে নিজেকে সুস্থ মনে করতে পারেন। পরে ওই তথ্যে ‘স্বাভাবিক পরিসর’ সম্পর্কিত অংশ নীরবে সরিয়ে ফেলা হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

আরেক ঘটনায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশ্নের উত্তরে নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা সাইটের বদলে ভিডিও প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট থেকে তথ্য নিয়ে সারাংশ তৈরি করা হয়েছে। প্রতি মাসে বিপুলসংখ্যক মানুষ সার্চ ব্যবহার করেন। ফলে এমন ভুল তথ্য সহজেই বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে-এমন আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন : বিজ্ঞাপন ছাড়াই ইউটিউবে ভিডিও দেখবেন যেভাবে

চিকিৎসকেরা বরাবরই অসুস্থতার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অনলাইন সার্চের ওপর নির্ভর না করার পরামর্শ দিয়ে আসছেন। উপসর্গ লিখে সম্ভাব্য রোগ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া অনেক সময় বিভ্রান্তিকর হতে পারে। এখন সমস্যা আরও জটিল হচ্ছে, কারণ অনেক ব্যবহারকারী বিস্তারিত ফলাফল না পড়ে সরাসরি এআইয়ের সারাংশ দেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন-যা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, জার্মানিতে ৫০ হাজার সার্চ বিশ্লেষণে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ ক্ষেত্রে ভিডিও প্ল্যাটফর্মের তথ্য থেকে সারাংশ তৈরি হয়েছে। অথচ দেশটির অন্যতম বড় স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘নেটডক্টর.ডি’-এর তথ্য ব্যবহার হয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে। সব মিলিয়ে মাত্র ৩৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ এআই ওভারভিউ নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসূত্রের সঙ্গে মিলেছে। পরিসংখ্যানই ইঙ্গিত দিচ্ছে, উদ্বেগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রযুক্তি সহায়ক হতে পারে, তবে চিকিৎসার বিকল্প নয়। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft