ট্রাইব্যুনালে ৮ বছর গুমজীবনের বিচার চাইলেন আযমী
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:২৩ পিএম

ডিজিএফআইয়ের জেআইসিতে দীর্ঘ আট বছরের গুমজীবনের ভয়াবহ বর্ণনা তুলে ট্রাইব্যুনালের কাছে বিচার চেয়েছেন ভুক্তভোগী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ বিচার প্রার্থনা করেন তিনি। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আজ সাক্ষ্য দেন আযমী। জবানবন্দি সম্পন্ন হলেও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেরার জন্য আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

এ বিষয়ে আযমী বলেন, অপহরণকারীদের একজনকে আমি চিনতে পেরেছি বলে ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছি। জেআইসিতে রাখা কক্ষটিও আমি চিনতে পেরেছি। কারণ ওই সেলের দক্ষিণে ঢাকা স্টেশন অফিসার্স মেস-বি রয়েছে। অর্থাৎ আমাকে অপহরণের পরদিন ভোরের আলোয় ভেন্টিলেটর দিয়ে সেই পুরাতন মেস দেখতে পেয়েছি। এছাড়া ওখানে কয়েকজন আমাকে নিশ্চিত করেছেন এটা ডিজিএফআইয়ের কয়েদখানা, যা আয়নাঘর নামে পরিচিত।

আরও পড়ুন : সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকসহ ৮ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

চব্বিশের ৫ আগস্টের পর সেনাপ্রধান দেখা করেছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, উনি প্রথমে আমার সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করেছেন। এরপর লেফটেন্যান্ট জেনারেল শাহিনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সেনাপ্রধান নিশ্চিত করেন যে, ডিজিএফআই-ই আমাকে অপহরণ করেছিল। শাহিনের উপস্থিতিতে তিনি আমাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া এটার ওপর ভিত্তি করে তখন কর্মরত তিনজন জেনারেলকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। বাকি দুজন আগেই অবসর নিয়েছিলেন।

জেআইসি বা আয়নাঘর পরিদর্শনের বিষয়টিও ট্রাইব্যুনালে বর্ণনা দিয়েছেন আযমী। তিনি বলেন, সেলের যেখানে ভেন্টিলেটর ছিল না, সেখানে দেয়াল ভেঙে ভেন্টিলেটর করা হয়েছে। জানালাগুলো সব কালো রঙ দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল, যেন বাইরে কিছু দেখা না যায়। ছোট ছোট কক্ষের মধ্যে যেসব দেয়াল ছিল, সেসব ভেঙে বড় দেখানো হয়েছে। লোহার গ্রিলের দরজা ভেঙে কাঠের লাগানো হয়েছে। কক্ষের মান অনেক ভালো দেখানো হয়েছে, যেসব ওরকম ছিল না।

আরও পড়ুন : প্লট দুর্নীতি মামলা : হাসিনার ১০, টিউলিপ ৪, রাদওয়ান ও আজমিনার ৭ বছর কারাদণ্ড

ট্রাইব্যুনালে চাওয়া বিচার নিয়ে এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, আমাকে অবৈধভাবে অপহরণ করে আট বছর মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য করা হয়েছে। আমার অসুস্থ বিধবা মা, যার দেখাশোনা করতাম, অপহরণের তিন বছর পর তাকেও ধুঁকে ধুঁকে মরতে হয়েছে। স্ত্রী-সন্তানরাও কষ্টে দিন কাটিয়েছেন। আমি এ সবকিছুর জন্য সুবিচার প্রার্থনা করেছি।

এ প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ট্রাইব্যুনালে এ মামলার তিন নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য সমাপ্ত করেছেন ব্রিগেডিয়ার আযমী। তার জেরা বাকি রয়েছে। জবানবন্দিতে কীভাবে তাকে অপহরণ বা গুম করা হলো, কী ধরনের নির্যাতন, কী ধরনের খাবার দেওয়া হতো; সবকিছুর বিশদ বর্ণনা ট্রাইব্যুনালের সামনে দিয়েছেন তিনি। অতএব অবৈধভাবে আটক ও বন্দি রাখাটা গুম, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ। গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট আসামি ১৩ জন। এর মধ্যে ১২ জনই সাবেক-বর্তমান সেনা কর্মকর্তা। তবে তিনজন গ্রেপ্তার থাকলেও বাকিরা পলাতক রয়েছেন।

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft