দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার মূল চালক মস্তিষ্কের নতুন সার্কিট, গবেষণায় চিহ্নিত
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:০৬ পিএম

কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মস্তিষ্কের একটি সার্কিট চিহ্নিত করেছেন, যা সংক্ষিপ্ত সময়ের ব্যথাকে মাস বা বছরের জন্য দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই আবিষ্কার থেকে ভবিষ্যতে ব্যথা কমানোর নতুন চিকিৎসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

গবেষণায় মনোযোগ দেওয়া হয়েছে কাউডাল গ্রানুলার ইনসুলার কর্টেক্স (সিজিআইসি) নামের একটি ছোট নিউরন ক্লাস্টারে, যা মস্তিষ্কের ইনসুলার গভীরে অবস্থিত। পরীক্ষামূলক প্রাণীতে এই সার্কিটকে নিষ্ক্রিয় করলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা হওয়া থামানো যায় এবং যারা আগে থেকেই দীর্ঘ সময়ের ব্যথায় ভুগছিল, তাদের ব্যথা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

গবেষক লিন্ডা ওয়াটকিন্স বলেন, আমাদের গবেষণা দেখিয়েছে যে একটি নির্দিষ্ট মস্তিষ্কের সার্কিটই নির্ধারণ করে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হবে কি হবে না। এই সার্কিট বন্ধ করলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা হয় না, এবং ইতিমধ্যে ব্যথা থাকলে তা কমে যায়।

আরও পড়ুন : নকল স্বর্ণ চেনার সহজ উপায়

মার্কিন সিডিসি অনুসারে, প্রায় প্রতি চার জন প্রাপ্তবয়স্কের একজন দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় ভুগছে, যার মধ্যে প্রতি দশম জনের দৈনন্দিন জীবন ও কাজেও প্রভাব পড়ে। অনেকেই হালকা ছোঁয়াতেও ব্যথা অনুভব করে, যা অ্যালোডিনিয়া নামে পরিচিত।

গবেষণায় দেখা গেছে, সিজিআইসি সাধারণ তাত্ক্ষণিক ব্যথায় ততটা সক্রিয় না হলেও দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই সার্কিট মস্তিষ্কের ব্যথা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রকে সংকেত পাঠায়, যা স্পাইনাল কর্ডকে ব্যথার সংকেত পাঠানো চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেয়।

প্রাথমিকভাবে নিউরোইমেজিং ও কেমোজেনেটিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষকরা এই সার্কিটকে নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন। আহত প্রাণীদের ক্ষেত্রে, সার্কিট বন্ধ করলে ব্যথা কম সময়ের জন্যই অনুভূত হয়। যারা ইতিমধ্যেই দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় ভুগছিল, তাদের ক্ষেত্রে সার্কিট বন্ধ করলে ব্যথা হ্রাস পেয়েছে।

আরও পড়ুন : শীতে ব্রণ কেন বাড়ে? মুক্তি পাবেন যে উপায়ে

ডক্টরাল গবেষক ও প্রথম লেখক জেসন বল বলেন, এই ফলাফল দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নিউরোসায়েন্সের উন্নতি গবেষকদের জন্য অত্যন্ত নির্দিষ্ট চিকিৎসার লক্ষ্য চিহ্নিত করা সহজ করছে।

যদিও এই গবেষণা এখনও প্রাণীতে সীমাবদ্ধ এবং মানুষের উপর প্রয়োগের জন্য আরও পরীক্ষা প্রয়োজন, তবুও এটি ভবিষ্যতে অপিওয়েডের বিকল্প, কম আসক্তিকর চিকিৎসা, যেমন সুনির্দিষ্ট ওষুধ ইনফিউশন বা ব্রেইন-মেশিন ইন্টারফেসের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।

গবেষকরা মনে করেন, এই আবিষ্কার দেখায় যে নিউরোসায়েন্স দ্রুত এগোচ্ছে এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার জন্য আরও কার্যকর ও নিরাপদ চিকিৎসা সম্ভব হতে যাচ্ছে।

জ/ই

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft