শেরপুরের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত, সুষ্ঠু তদন্ত চায় বিএনপি : মাহদী আমিন
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৫৩ পিএম আপডেট: ২৯.০১.২০২৬ ৩:২৩ পিএম

শেরপুরে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, এই সংঘাত এড়ানো যেত কি না, নির্ধারিত সময়ের আগে একটি দল কেন সব চেয়ার দখল করে রাখলো? সেই দলের লোকজন কেন সেখানে লাঠিসোঁটা জড়ো করল? সবার সম্মিলিত অনুরোধ উপেক্ষা করে সেই দলের প্রার্থী কেন সংঘাতের পথ বেছে নিলেন, এসব বিষয় নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন।

আরও পড়ুন : নারীরা কখনও জামায়াতের প্রধান হতে পারবে না: জামায়াত আমির

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বলেন, শেরপুরে স্থানীয় প্রশাসনের আয়োজনে, সব প্রার্থীদের অংশগ্রহণে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার একটি অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে প্রত্যেকটি দলের বসার জন্য আসন নির্ধারিত ছিল। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ সব আসন তথা চেয়ার দখল করে রেখেছিলেন এবং বিএনপির নেতা কর্মীদের তাদের নির্ধারিত আসনে বসতে দিচ্ছিলেন না। প্রশাসন বারবার আহ্বান জানানোর পরও তারা চেয়ার ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। চেয়ারে বসার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শেরপুরে যে সহিংসতা ও সংঘাত আমরা দেখেছি, সেটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। গণঅভ্যুত্থানের পর আমাদের সবার প্রত্যাশা ছিল এমন একটি নির্বাচন, যেখানে পরিবেশ হবে উৎসবমুখর, সংঘাতময় নয়।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে এবং দেশের প্রায় সবারই বিশ্বাস অনুযায়ী, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে ইনশাআল্লাহ বিএনপিই বিজয়ী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসবে। সুতরাং আমাদের একটি বড় লক্ষ্য হলো, নির্বাচন যেন বিতর্কমুক্ত থাকে, নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ থাকে এবং নির্বাচনকে ঘিরে কেউ যেন কোনো সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে। এটি আমাদের দলের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দেশের জন্যও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তারপরও শেরপুরে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। কীভাবে সেটি শুরু হলো, কারা সেখানে মদদ দিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন কেন পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে পারল না, এসব বিষয় নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই অনেক প্রশ্ন জাগছে।

আরও পড়ুন : জামায়াত আমিরের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

মাহদী আমিন বলেন, আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিও দেখেছি, যেখানে দেখা যাচ্ছে, জামায়াতের যিনি প্রার্থী রয়েছেন, তাকে বারবার পুলিশ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এমনকি বিএনপির নেতাকর্মীরাও হাত জোড় করে অনুরোধ করেছিলেন যেন তিনি ওই রাস্তা দিয়ে না যান। তারপরও তিনি কেন সেই দিক দিয়েই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন? তাকে বারবার বলতে শোনা যাচ্ছিল, ‘জান যায় যাক।’

তিনি বলেন, এই সংঘাতে একজন মানুষ নিহত হয়েছেন, তিনি যে দলেরই হোক না কেন তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিএনপির ৪০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। সুতরাং যিনি নিহত হয়েছেন এবং যারা আহত হয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই তো এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চেয়েছিলেন, যেখানে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে কোনো মারামারি বা কোন্দল থাকবে না।

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বলেন, এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে তা নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করছি। পাশাপাশি সব মহল থেকে আহ্বান জানাতে চাই, কেউ যেন কোনো উসকানি না দেন, কোনো উসকানিতে পা না দেন এবং সবাই মিলে একটি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ নির্বাচনী প্রচারণা নিশ্চিত করি।

আরও পড়ুন : জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জামায়াত

মাহদী আমিন বলেন, শেরপুরের এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন দেশের আর কোথাও না ঘটে, সেজন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আমরা জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক আচরণ বজায় রাখবে, এটিই গণমানুষের প্রত্যাশা।

আরেক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাম্প্রতিক মিছিল ও বিএনপিকে জড়িয়ে অপপ্রচারের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিত্তিহীন বয়ান তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা ইতিবাচক রাজনীতি চাই, দোষারোপের রাজনীতি নয়।

মাহদী আমিন আরও বলেন, সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির অগ্রাধিকার হলো একটি শান্তিপূর্ণ, বিতর্কমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য বজায় থাকলে ইনশাল্লাহ আমরা সবাই মিলে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারব।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য জুবায়ের বাবু।

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft