কালকিনি হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৩:১৩ পিএম

১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে কালকিনি মুক্ত হয়। দিবসটি উপলক্ষে মাদারীপুরের কালকিনিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার(৮ ডিসেম্বর)সকালে এ উপলক্ষে কালকিনি উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্যোগে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ উল আরেফিন, সহকারী কমিশনার(ভূমি) মাহবুবা ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বেপারী সহ কালকিনির মুক্তিযোদ্ধা ও সুধীজন। আলোচনা সভায় মুক্তিযোদ্ধারা তাদের যুদ্ধকালীন স্মৃতিচারণ করেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধে মাদারীপুরের কালকিনি ছিল ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে। ১৯৭১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পাকহানাদার বাহিনী রাজাকারদের সহযোগিতায় কালকিনি উপজেলার ফাসিয়াতলা বাজারে গণহত্যা ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এ সময় ১৫০ জন মুক্তিকামী মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর কালকিনির গোপালপুর ব্রিজে মাইন বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ফেরার পথে পাক আর্মির বুলেটে মারা যান শহীদ বীর বিক্রম নুরুল ইসলাম। চলতে থাকে খণ্ড যুদ্ধ। 

আরও পড়ুন : আজ মাদারীপুরের কালকিনি হানাদার মুক্ত দিবস

সর্বশেষে ৮ ডিসেম্বর কমান্ডার আ. রহমানের নেতৃত্বে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা কালকিনির লালপুল সংলগ্ন ও থানার অভ্যন্তরে পাকহানাদার ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে কালকিনিকে হানাদারমুক্ত করেন। এ দিন হাজার হাজার নারী-পুরুষ বিজয়ের আনন্দে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।পরে কালকিনি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রকাশ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেকুজ্জামান বলেন, আমরা জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছি। এ কারণে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি।কালকিনির ফাঁসিয়াতলা বাজারে অসংখ্য মানুষকে পাকবাহিনী ও তাদের দোসর, রাজাকার, আলবদররা নৃশংসভাবে হত্যা করেন। ভূরঘাটার পাশে একটি ব্রিজের কাছে মানুষ ধরে এনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিত পাকবাহিনী। ব্রিজের নিচে পানিতে মানুষের লাল রক্তে রঙ্গিন হওয়ায় এই ব্রিজের নাম হয় লাল পুল বা লাল ব্রিজ। আজও এই ব্রিজটির নাম মানুষের মুখে মুখে আছে।

কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান লাল ব্রিজ এলাকায় শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পরিকল্পনা আছে, দ্রুত তা বাস্তবায়ন করা হবে।

জদি/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft