রৌমারীর চরাঞ্চলে আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মকান্ডে বদলে যাচ্ছে ৩৬০ পরিবার
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫, ২:২৪ পিএম

ব্রহ্মপুত্র নদের বন্যা ও ভাঙ্গনের কবলে পড়ে রৌমারীতে প্রতিবছর গৃহহীন হয় অসংখ্য পরিবার। বিনষ্ট হয় চরের মানুষের কৃষি ফসল। ফলে পরিবারগুলো পড়ে যায় চরম সংকটে। পরিস্থিতিতে বন্যা ও নদী ভাঙ্গনের শিকার ৩৬০টি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার এবং একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ, বাংলাদেশ। তারা দুর্যোগকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তার পাশাপাশি পারিবারিকভাবে আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মকান্ডে এগিয়ে এসেছে। আর তাদের সহযোগিতায় এসব পরিবার ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। সেই সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে তাদের জীবনমান। 

সংস্থাটির সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রৌমারী উপজেলায় ১২টি চরের ৩৬০টি দরিদ্র পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে সহায়তা দিয়ে উন্নয়নমুখী হতে সহযোগিতা করছে। প্রশিক্ষণসহ পরিবারগুলোকে শীত ও গ্রীষ্ম মৌসুমে শাকসব্জির বীজ দেওয়া ছাড়াও ভেড়া বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও পাশে দাঁড়ান তারা বিভিন্ন দুর্যোগে। বন্যাকালীন সময়েও যাতে সবজি উৎপাদন অব্যাহত থাকে সেজন্য কমিউনিটি ভিত্তিক সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করেছে সংস্থাটি। বস্তায় আদা চাষে উৎসাহিত করায় গ্রামের প্রত্যেক বাড়িতে বস্তায় আদা চাষ হচ্ছে। সবজি উৎপাদনে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে ভার্মি কম্পোষ্ট উৎপাদন এবং ব্যবহারে সহায়তা প্রদান করছে। পরিবারগুলোর বন্ধন অটুট রাখার জন্য পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ ও আইনগত বিষয় নিয়ে পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হয়।

আরও পড়ুন : হাতীবান্ধা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য আটক

শনিবার ২২ নভেম্বর উপজেলার চরশৌলমারী ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় মিয়ার চরে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, এই গ্রামের ৩০টি বন্যা কবলিত পরিবার পারিবারিক আয়বৃদ্ধিমুলক কর্মকান্ড ছাড়াও সামাজিক উন্নয়নমুলক কাজে যুক্ত হয়েছেন।

এই গ্রামের বাসিন্দা আছিয়া বেগম জানান, ফ্রেন্ডশিপের ট্রানজিশনাল ফান্ড প্রকল্প থেকে আমাকে ৪ হাজার ১’শ টাকা দিয়ে একটি ভেড়া দিয়েছে এবং সেটি থেকে ৪টি বাচ্চা হয়েছে। এখন তার ৫টি ভেড়া, যার বাজারমূল্য ৪৭ হাজার টাকা। একই গ্রামের গোলজার আলী বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে শাক-সবজি উৎপাদনের প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর আমার বসতবাড়ীতে সবজি উৎপাদন করে এ বছর ২২ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছি। যা আমার সাংসারিক ব্যয়ভার বহন করে কিছু টাকা সঞ্চয় করতে পারছি।

মিয়ার চর গ্রামের শেফালী বেগম জানান, প্রকল্প থেকে কেঁচো সার তৈরীর প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর আমার বসতবাড়ীতে কেঁচোসার উৎপাদন করছি এবং প্রতিমাসে ১৫’শ টাকার কেঁচো সার বিক্রি করছি। আছমা বেগম এর সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি ফ্রেন্ডশিপের সহায়তায় ২৫টি বস্তায় আদার চাষ করেছেন এবং প্রতি বস্তায় ১ থেকে দেড় কেজি আধা পাবেন বলে তিনি আশাবাদী। এ গ্রামের আরো অনেকেই বস্তায় আদা চাষ, সবজি ও ভার্মিকম্পোষ্ট উৎপাদন এবং ভেড়া পালন করে পরিবারের আয়বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে। একই গ্রামের আবু হানিফ জানান, আমাদেরকে সুশাসন সম্পর্কে প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে। আমরা পারিবারিক নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, তালাকপ্রাপ্ত, বহুবিবাহ, পারিবারিক দ্বন্দ, সংবিধান, সংসদ সম্পর্কে জানতে পেরেছি। এখন কোনো আইনি পরামর্শ প্রযোজন হলে আমরা ফ্রেন্ডশিপের সহায়তা নিই এবং তারা আমাদেরকে বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ  প্রদান করেন।

আরও পড়ুন : দিনাজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জন নিহত

একই গ্রামের ইছাহাক আলী ও বেলায়েত হোসেন বলেন, আগে হাট থেকে রাসায়নিক সার কিনে আনতাম, এখন আমরা জৈব সার তৈরি করে ব্যবহার করি, ফেরোমন ফাঁদ দিয়ে পোকা মারছি, সরকারি সুযোগ সুবিধা পেতে বিভিন্ন অফিসে যোগাযোগ করছি। 

ফ্রেন্ডশিপ এর ট্রান্সজিশনাল ফান্ড (এএসডি) প্রজেক্টের রিজিওনাল ম্যানেজার কৃষিবিদ মোঃ আশরাফুল ইসলাম মল্লিক জানান, ফ্রেন্ডশিপ লুক্সেমবার্গ এর সহায়তায় সদস্যদের আয় রোজগার নিয়মিত করণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্ন্য়ন,সুশাসন এবং স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে কুড়িগ্রাম সদর, চিলমারী এবং রৌমারী উপজেলার মোট ২৮টি চরে এ বছর ৮৪০ জন সদস্যকে উক্ত প্রকল্প সহায়তা প্রদান করেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জনাব মো. কাইয়ুম চৌধুরী জানান, উক্ত প্রকল্পের পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক উপকারভোগীদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নে সর্বাত্নক সহযোগিতা প্রদান করছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান পাইকাড় জানান, রৌমারী উপজেলায় ফ্রেন্ডশিপের ট্রানজিশনাল ফান্ড প্রকল্পের মাধ্যমে এ বছর ৩৬০টি পরিবারকে ভেড়া প্রদান করেছে এবং প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে; ফলে পরিবারগুলোর ভেড়া পালনের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে অধিক আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যেকটি ভেড়াকে টিকা এবং কৃমিনাশক বিনামূল্যে দেয়া হয়েছে। চর এলাকা ভেড়া পালনের জন্য উপযুক্ত তাই ভেড়া পালনের মাধ্যমে চরাঞ্চলের মানুষ স্বাবলম্বী হচ্ছে।

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft