
পটুয়াখালীর দশমিনায় সবুজ (৩০) নামের এক মাদকাসক্ত যুবকের দায়ের কোপে ও লাঠির আঘাতে মা ছেলেসহ একই বাড়ির অন্তত চারজন গুরুতর আহত ও এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় দীর্ঘ ৫ ঘন্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষে নিরাপদে প্রায় সত্তর ফুট উঁচু চাম্বুল গাছের চূড়া থেকে সবুজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড চরহোসনাবাদ গ্রামের মৃধা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একদিকে যেমন এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, অপরদিকে নেমেছে শোকের ছায়া।
ঘাতক সবুজ ওই গ্রামের আবু মৃধার ছেলে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, কোনো কারণ ছাড়াই আচমকা সবুজ ওই বাড়ির লোকজনদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। তাদের ডাকচিৎকারে বাড়ির মধ্যের এবং আশেপাশের লোকজন দৌড়ে এলে ধাওয়া খেয়ে সবুজ তাৎক্ষণিক দৌড়ে পালাতে না পেরে একটি সুউচ্চ গাছের মগডালে আশ্রয় নেয়। তাৎক্ষণিক স্থানীয় কিছু লোকজন আহতদের উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে যায় এবং কিছু স্থানীয়রা চারদিক থেকে ওই গাছ ঘিরে রাখে যাতে সবুজ পালাতে না পারে। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে সবুজকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালায়।
জানা যায়, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই গাছটি কর্ডন করে রেখে গাছ বেয়ে সবুজকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে সে হাতে থাকা লোহা সদৃশ কিছু পুলিশের গায়ে মারার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ও স্থানীয়রা ওই গাছ কাটার উদ্যোগ নিলে সে চূড়া থেকে লাফিয়ে আরেকি চাম্বুল গাছের চূড়ায় চলে যায়। পুলিশের গ্রেপ্তার এড়াতে একইভাবে সে লাফিয়ে লাফিয়ে চারটি গাছ পরিবর্তন করে আরেকটি চাম্বুল গাছের প্রায় সত্তর ফুট উচ্চতায় চূড়ায় অবস্থান করে। পরে বিশেষ কৌশলে রাত সোয়া ১০ টার দিকে স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় ঘাতক সবুজকে নিরাপদে গাছ থেকে নামিয়ে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এদিকে গুরুতর আহত ওই গ্রামের জামাল বেপারির শিশু ছেলে সাফায়েত (৮) রাত ৮ টার দিকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার সাথেই মৃত্যুবরণ করে বলে পরিবার সুত্রে জানা গেছে।
হামলায় আহতরা হলেন- একই বাড়ির বাহাদুর মুন্সির স্ত্রী মরিয়ম (২৮) ও তার শিশু ছেলে মুহিত হাসান (৮), সাইদুলের স্ত্রী নাসিমা (৩২) এবং পঞ্চম আলীর ছেলে বাবুল (৪৭)। তারা সবাই একই বাড়ির বাসিন্দা।
জানা যায়, আহতদের মধ্যে সাফায়েত, মুহিত হাসান ও তার মা মরিয়মকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আশংকাজনক অবস্থায় চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরী বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন। অপর দুইজন নাসিমা ও বাবুলকে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন চিকিৎসকরা।
দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রাহুল বিন হালিম বলেন, গুরুতর আহত দুই শিশু সাফায়েত ও মুহিত হাসানের অবস্থা খুবই আশংকাজনক। একই অবস্থা মুহিত হাসানের মা মরিয়মের। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জরুরী উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম বলেন, আমি ঘটনাস্থলে থেকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় ঘাতক সবুজকে গাছ থেকে নামিয়ে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।