প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৯:৩৬ পিএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বালিগাঁও গ্রামে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের আকস্মিক সিদ্ধান্তে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ছয় গ্রামের মানুষ। গরমশাহ মাজার সংলগ্ন প্রধান সড়কে লোহার স্লিপার বসিয়ে পথ বন্ধ করে দেওয়ায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে স্থবিরতা। বিশেষ করে দক্ষিণ বালিগাঁও কবরস্থানে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রামীণ জনজীবনে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু বছর ধরে গরমশাহ মাজার সংলগ্ন এ সড়ক দিয়ে দক্ষিণ বালিগাঁও, বাঘমারা, দক্ষিণ রাসটিলা, উত্তর রাসটিলা, পশ্চিম বালিগাঁও ও উত্তর বালিগাঁও গ্রামের মানুষ চলাচল করে আসছেন। নিত্যদিনের যাতায়াতের পাশাপাশি মৃতদেহ দাফনের জন্যও দক্ষিণ বালিগাঁও কবরস্থানের একমাত্র ভরসা ছিল এই সড়কটি। হঠাৎ কোনো পূর্বঘোষণা কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই পথ বন্ধ করে দেওয়ায় গ্রামবাসী পড়েছেন চরম বিপাকে।
বিশেষ করে মৃতদেহ দাফনের জন্য কবরস্থানে লাশ নেওয়ার আর কোনো বিকল্প পথ না থাকায় পরিস্থিতি মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, মানুষের মৌলিক অধিকারকে উপেক্ষা করে রেলওয়ের এমন পদক্ষেপ সরাসরি মানবিক সংকট সৃষ্টি করছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার বাদ জুমা বালিগাঁও শাহী ঈদগাহ মাঠে শতশত মানুষ মানববন্ধন করেন। কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, রেলওয়ের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অমানবিক, যা শুধু দৈনন্দিন যাতায়াত নয়, বরং ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকেও বাধাগ্রস্ত করছে। বক্তারা অবিলম্বে রাস্তা খুলে দেওয়ার দাবি জানান এবং তা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাঘমারা গ্রামের সমাজসেবক মো. গৌছ মিয়া, দক্ষিণ রাসটিলা গ্রামের মো. রহমান মিয়া, পূর্ব বাঘমারার জয়নাল মিয়া সরদার, দক্ষিণ রাসটিলা মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন, পশ্চিম বাঘমারার সমাজসেবক মো. আনোয়ার হোসেন, কমলগঞ্জ ইউনিয়ন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. শামীম আহমেদ, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শেখ মোহাম্মদ নোমান আহমেদ ও ভানুগাছ চৌমুহনী সিএনজি স্ট্যান্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- কমলগঞ্জ প্রেস ক্লাবের আহবায়ক এম এ ওয়াহিদ রুলু, ভানুগাছ বাজার বণিক সমিতির সহ-সভাপতি কাজী মো. মামুনুর রশিদ মামুন এবং স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।
গ্রামবাসীরা জানান, উন্নয়নের নামে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বাধাগ্রস্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাদের একটাই দাবি ২৯৮/০ ও ২৯৯/১ নম্বর রেলওয়ে পিলারের কাছে বন্ধ করে দেওয়া সড়কটি অবিলম্বে খুলে দেওয়া হোক, যাতে মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়।