প্রকাশ: শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫, ১২:০১ এএম আপডেট: ২৫.০৮.২০২৫ ২:৪৭ এএম

নাটোরের গুরুদাসপুরের যোগীন্দ্র নগর গ্রামের শহীদুল ইসলাম ভম্বুর বাড়িতে চাঞ্চল্যকর হামলা ও ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। ৫০-৬০ জন সংঘবদ্ধ লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মালামাল লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একই জেলার সিংড়া উপজেলার লাছিয়ারকান্দি গ্রামের মৃত পরশ আলীর ছেলে আব্দুল করিম (৪৫) কে প্রধান বিবাদী করে শহীদুল ইসলাম ভম্বুর স্ত্রী তানিয়া খাতুন-৪৫ গুরুদাসপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- করিমের ছেলে রিপন (৩২), সামাদের ছেলে খাইরুল ইসলাম (৩২), মহিষমারী গ্রামের কিতাব আলীর ছেলে বাবু (২৬) ও মো. রশিদ (৩২), গুরুদাসপুর সাবগাড়ী বিলহরিবারির আলমিনের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৬), মাহাতাবের ছেলে আতিক (২৮), এবং যোগীন্দ্র নগরের ওসমান গনির ছেলে বদর আলী (২৮)। এ ছাড়া আরও ৫০-৬০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, শহীদুল ইসলাম ভম্বুর একাধিক পুকুর, গরুর ফার্ম হাঁসের খামার ও অনেক জোতজমি রয়েছে। এ কারণে প্রধান আসামি আব্দুল করিম নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছিল। সর্বশেষ গত ২০ আগস্ট তিনি বিকাশের মাধ্যমে ৮ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেয়। এরপর পুনরায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলে ভম্বু অস্বীকৃতি জানান। এর জের ধরে গত ২১ আগস্ট দুপুরে সংঘবদ্ধ দলটি তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে লোহার বাক্স ভেঙে প্রায় ১২ লাখ টাকা নগদ, পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, একটি মোটরসাইকেল লুট করে এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় তার স্ত্রী-সন্তানদেরও মারধর ও অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ভম্বুর লোকজন যোগীন্দ্র নগর পাকা সড়কে মানববন্ধন করেন।
অভিযুক্ত আব্দুল করিম মোবাইল ফোনে জানান, শহীদুল ইসলাম ভম্বু শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। তিনি প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করে বিপুল সম্পদ গড়েছেন এবং যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। করিমের দাবি, অভিযোগের দিন ভম্বুর বাড়িতে মাদক চালান আসবে এমন তথ্যের ভিত্তিতে তারা সচেতন মহল হিসেবে সেখানে যান, কিন্তু ভম্বু ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়। তখন তারা কেবল ভম্বুর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই ফিরে আসেন।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসমাউল হক বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।