
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত যক্ষা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠছেন শত শত রোগী। গত এক বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখানে প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দুইজন নতুন রোগী যক্ষা শনাক্ত হচ্ছেন। প্রতি মাসে গড়ে ৪৫ থেকে ৫০ জন রোগী চিকিৎসা শুরু করেন, আর পুরো বছরে এই সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৬০০ জনে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যক্ষা নিয়ন্ত্রণ শাখার তথ্যমতে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষ নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করছেন এবং অধিকাংশ রোগীই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক গড় আক্রান্ত ১.৫–২ জন, মাসিক গড় আক্রান্ত ৪৫–৫০ জন, বার্ষিক আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫৪০–৬০০ জন।
এ ব্যাপারে পশ্চিম সুজাতপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শামসুজ্জামান (৭০) বলেন, প্রথমে বুকের ব্যথা আর কাশি নিয়ে ভেবেছিলাম সর্দি-জ্বর, পরে পরীক্ষায় যক্ষা ধরা পড়ে। চিকিৎসা শুরু করার ছয় মাস পর আমি এখন অনেকটা ভালো আছি।
হাপানিয়া গ্রামের চান মিয়া (৪৫) জানান, গ্রামের স্বাস্থ্যকর্মীরা আমাকে হাসপাতালে যেতে বলেন। সেখানে পরীক্ষা করেই চিকিৎসা শুরু হয়। ছয় মাসের ওষুধ শেষ করার পর এখন আর আগের মতো কষ্ট নেই।
গজরা ইউনিয়নের জাকির হোসেনের কন্যা সারিকা (১১) এবং ডাকুরকান্দি গ্রামের আনোয়ারা বেগম (৭৫)ও একইভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
উপজেলা জাতীয় যক্ষা নিয়ন্ত্রণ সহকারী (টিএলসিএ) সাদেকুর রহমান বলেন, যক্ষা নিরাময়যোগ্য রোগ। আমাদের এখানে বিনামূল্যে পরীক্ষা, ওষুধ এবং ফলোআপ সুবিধা দেওয়া হয়। প্রতিদিন গড়ে দুইজন রোগী শনাক্ত হয় এবং তাদের নিবন্ধন করে চিকিৎসা শুরু করা হয়। নিয়মিত ছয় মাস চিকিৎসা নিলে যক্ষা পুরোপুরি সারিয়ে তোলা সম্ভব।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, যক্ষা রোগে আক্রান্ত অনেকেই প্রথমে চিকিৎসা নিতে লজ্জা বা ভয় পান, যা রোগের বিস্তার বাড়ায়। আমরা প্রতিটি ইউনিয়নে হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্টদের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করছি। স্কুল, কলেজ, হাটবাজার ও গ্রামে উঠান বৈঠক করছি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য মতলব উত্তর উপজেলাকে যক্ষা মুক্ত ঘোষণা করা। এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো চিকিৎসা নিলে যক্ষা আর মরণব্যাধি নয়। নিয়মিত চিকিৎসা, সচেতনতা ও সামাজিক সহযোগিতাই পারে মতলব উত্তরকে যক্ষা মুক্ত উপজেলায় পরিণত করতে।