রাজশাহীতে বিপজ্জনক কীটনাশক ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৮ শতাংশ মানুষ
রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই, ২০২৫, ৬:০৭ পিএম

অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ কীটনাক-বালাইনাশক। বিপজ্জনক এসব নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহার করে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন ব্যবহারকারীরা। অথচ নিষিদ্ধ ওষুধের অবৈধ বাজারজাত বন্ধে কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের। রাজশাহী অঞ্চলে চলছে অবৈধ কীটনাশকের এমন রমরমা ব্যবসা। 

রাজশাহীতে ‘জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাববিষয়ক মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানমূলক সমীক্ষায়’ ভয়াবহ এসব তথ্য উঠে এসেছে। চলতি বছর চালানো এই গবেষণায় বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহারে শুধু যে কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে তা নয়। বিরূপ প্রভাব পড়ছে পরিবেশ, প্রকৃতিতে। হুমকির মুখে পড়ছে জনস্বাস্থ্যও।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজিনাস নলেজের (বারসিক) এই গবেষণায় আরো বলা হয়, কীটশানক-বালাইনাশক ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৯৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ মানুষ জানেন না এসব ওষুধ নিষিদ্ধ ও বিপজ্জনক। রাজশাহীর আটটি উপজেলার ১৯টি কৃষিপ্রধান গ্রামের মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। গবেষণা করা হয়েছে ভুক্তভোগী কৃষকদের নানা ধরণের কেস। 

এছাড়া স্থানীয় কীটনাশক ডিলার, খুচরা বিক্রেতা, পরিবেশক, উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমীক্ষাটি করা হয়েছে। 

গতকাল বুধবার রাজশাহীর একটি রেঁস্তোরায় গবেষণার ফলাফল তুরে ধরেন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের আঞ্চলিক সমন্বয়ক শহিদুল ইসলাম। 

গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহার করে রাজশাহীর ৮ উপজেলার ৬৮ শতাংশ মানুষ ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব বিপজ্জনক ওষুধ কিনলেও ক্রেতাদের বেশিরভাগই জানেন না এগুলো নিষিদ্ধ। কারণ মোড়ক পরিবর্তন করে বিভিন্ন নামে ৯৯ শতাংশ দোকানেই এসব বিজ্জনক ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে হরহামেশাই। দেশ-বিদেশে যেসব নিষিদ্ধ কীটনাশক বিক্রি করা হচ্ছে তার তালিকাও তুলে ধরা হয় ওই সমীক্ষায়। সেখানে বলা হয়, জিরো হার্ব-২০ এসএল (প্যারাকোয়াট), ফুরাডান ৫জি (কার্বোরাইল), এরোক্সান-২০ এসএল (প্যারাকোয়াট), গ্যাস ট্যাবলেট (অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড), কার্বোফোরান-৩, জিএসিআই (কার্বোফোরান), ইঁদুর মারার বিষ (বডিফ্যাকোয়াম) ও তালাফ-২০ এসএল (প্যারাকোয়াট) ওষুধ নিষিদ্ধ হলেও তা বিক্রি করা হচ্ছে।

নিষিদ্ধ এসব ওষুধের মধ্যে অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিষ প্যারাকোয়াট। এটি আগাছা পোড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। অনেক মানুষ এই প্যারাকোয়াট পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এটি মানবদেহে প্রবেশ করলে দ্রুত কিডনি বিকল করে দেয়। 

সমীক্ষার গবেষণা প্রতিবেদন পাঠ করতে গিয়ে নির্বাহী পরিচালক পাভেল পার্থ কৃষি বিভাগের উদাসিনতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজশাহীর বাজারগুলোর কীটনাশক দোকানে নিষিদ্ধ এসব বিজ্জনক ওষুধ প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। এসব ওষুধ পান করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতাও বড়েছে। অথচ নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রি বন্ধে কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, গবেষণা করতে গিয়ে তিনি নিজেও রাজশাহীর অনেক দোকান থেকে নিষিদ্ধ বেশকিছু কীটনাশক কিনেছেন। তার রশিদও রয়েছে। তাদের এই গবেষণা নিষিদ্ধ অধিক বিপজ্জক ওষুধ বিক্রি একটি ফৌজদারি অপরাধ খুঁজে পেয়েছে। তার দাবি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কীটনাকশক আইন ও বিধির প্রয়োগ করে এসব নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রি বন্ধে কঠোর ভূমি নিবে। ক্ষতির মুখ থেকে কৃষকদের রক্ষা করবে। একই সঙ্গে কীটনাশক-সম্পর্কিত স্বাস্থ্য তথ্য নিবন্ধন করা, কীটনাশকের ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণের জন্য তহবিল গঠন করার সুপারিশও করেন তিনি।

রাজশাহী বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. আজিজুর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজিনাস নলেজের (বারসিক) গবেষণা প্রতিবেদনে তিনি উদ্বিগ্ন। তবে নিষিদ্ধ কীটনাশক বিক্রির তথ্য তার কাছে। তবুও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন তিনি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft