
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় শতভাগ ফেল করেছে ৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক দের অবহেলায় এমন ফলাফল বলে অভিভাবকরা মত প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে জানা গেছে বোদা ইউনিয়নের ডাবরভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়, ময়দানদীঘি ইউনিয়নের ময়দানদীঘি দাখিল মাদ্রাসা, মুসলিমপুর দাখিল মাদ্রাসা এবং কুড়ালীপাড়া নাসরুল উলুম সিদ্দীকিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি।
ডাবরভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমাদের এসএসসি পরীক্ষা ২০২৫সনে মোট ১০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলো, এবারের ব্যাচটা খারাপ ছিল,তাই ফলাফলে এমন অবস্থা। কিন্তু, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবী বিদ্যালয়ে পড়াশোনা হয়না, শিক্ষকরা সঠিকভাবে ক্লাস না নিয়ে চা-পান আর আড্ডাবাজি করে চলে যান। বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানীয় লোকজন বলছেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীরা ১০.৩০ থেকে ১১ টার আগে কেউ আসেন না।
ময়দানদীঘি দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারিন্টেন্ডেন্ট মুসলিমুর রহিমান বলেন, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত মাদ্রাসায় আসে না, তারা শুধু মাদ্রাসায় আসে পরীক্ষা দিতে।আমি বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের ছেলেমেয়েদের মাদ্রাসায় পাঠাতে বলেছি কিন্তু কাজ হয়নি।
মুসলিমপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট মকবুল হোসেন প্রধান বলেন, ছাত্ররা ঠিকমতো বাড়িতে বই পড়ে না। তারা মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত আর সাইকেল নিয়ে ঘুরাঘুরি করে বেড়ায়। ফলে আমরা দাখিল পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারিনি।
কুড়ালীপাড়া নাসরুল উলুম সিদ্দীকিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার নুর নবী বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত মাদ্রাসায় আসে না। অনেকের বিয়ে হয়ে গেছে তাই ভালো ফলাফল আসেনি।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আইবুল ইসলাম বলেন, "শতভাগ ফেল করা ৪ টি প্রতিষ্ঠানের কাছে কারণ জানতে চাওয়া হবে। সঠিক কারণ উদঘাটন করে উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন সহ সবাইকে বিষয়টি অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবো। "
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) খায়রুল আনাম মো. আফতাবুর হেলালি মুঠোফোনে জনকণ্ঠ কে জানান , যেসব প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আগামীতে যাতে এ ধরনের সমস্যা না হয়, এজন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে মতবিনিময় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, উপজেলায় শতভাগ ফেল করা চার প্রতিষ্ঠান নিয়ে এলাকাবাসীর মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে না এসে বিভিন্ন বাজারের চায়ের দোকানে আড্ডায় মশগুল হতেই যেন ব্যস্ত দেখা যায় শিক্ষকদের, কোন কোন প্রতিষ্ঠান প্রধান ইচ্ছে হলে মাদ্রাসাতেই আসেননা বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।