
পঞ্চগড়ের বোদায় প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া শস্য 'কাউন' চাষাবাদে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। একটা সময় ছিল যখন পুরো জৈষ্ঠ্যমাস জুড়ে কাউন মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করত কৃষাণ-কৃষাণীরা। কাউন মাড়াইয়ের প্রাকৃতিক গন্ধে ভরে উঠতো পল্লীর পথ-প্রান্তর। মটকি ভরে কাউন ঘরে তুলে অল্প অল্প করে সারাবছর কাউনের ক্ষীর, পায়েস, পিঠা, পোলাও সহ নানা ধরনের খাবার তৈরি হতো গ্রামগঞ্জে। পুষ্টিগুনে সমৃদ্ধ এই ছোট শস্যদানা এক সময় গরীবের পাতে থাকলেও এখন তা স্থান করে নিয়েছে শহুরে বিলাসী খাবারের তালিকায়।
বোদা উপজেলার ঝলইশালশিরি ইউনিয়নের ৭৫ উর্দ্ধ বয়সী সাবেক কাউন চাষী কছিরদ্দীন বলেন, "ছোটবেলায় আমরা তিন বেলা কাউনের ভাত খেতাম। এখনকার মত সহজে মিলতো না ধান কিংবা গম। এখন মানুষ শখ করে কাউনের পায়েস খায়, আমরা তো জীবন বাঁচাতে খেতাম। আজ থেকে দেড় যুগ আগে অভাবের মাস হিসেবে পরিচিত আশ্বিন-কার্তিক মাসে, এই অঞ্চলের বেশীরভাগ মানুষই কাউনের ভাত খেয়ে জীবনযাপন করতো।"
বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায়, কাউনের চালে থাকে আয়রন, ফাইবার, প্রোটিন ও ভিটামিন বি- কমপ্লেক্স। যা শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। অথচ আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চলের মানুষ কাউন চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। কাউনের পরিবর্তে জায়গা করে নিয়েছে বোরো ধান, ভুট্টা, বাদামের মতো অর্থকরী ফসল।
তবে আশার কথা হলো, নতুন করে অনেক কৃষক কাউন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
বোদা উপজেলার ব্যাংহারি বনগ্রাম ইউনিয়নের ছেতনাইপাড়া এলাকার ওসমান গনি জানান, এই অঞ্চল হতে কাউন চাষ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে কাউনের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষকরা আবার নতুন করে অল্প পরিমাণ জমিতে কাউন চাষ শুরু করেছে।
একই ইউনিয়নের উলিপুর গ্রামের কাউনচাষী সাগর ইসলাম বলেন, তিনি ১৪ শতক জমিতে কাউন চাষ করেছেন। আলু উঠিয়ে কাউন চাষ করায় তেমন একটা খরচ হয়নি। অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় তিনি পরবর্তীতে আরোও বেশি পরিমাণ জমিতে কাউন চাষ করবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে কাউনের বাজার মূল্য ভালো। এক কেজি কাউন ১৫০ টাকা দরে প্রতি মন কাউনের মূল্য ৬০০০ টাকা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ আহমেদ রাশেদুন-নবী বলেন, বোদা উপজেলায় হাতেগোণা কয়েকজন কৃষক কাউন চাষ করলেও বর্তমানে এর চাহিদা ও ভালো দাম থাকায় নতুন করে অনেকেই কাউন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। উপজেলা কৃষি অফিস উন্নত জাতের বীজ সহ যাবতীয় তদারকি এবং পরামর্শ দিয়ে বরাবরের মতোই ভবিষ্যতেও কৃষকদের পাশে থাকবে।