প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০২৫, ৫:৫৯ পিএম

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় অস্ত্রসহ দুই জলদস্যুকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৬ জুন) রাতে উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন যতীন্দ্রনগর ও মীরগাং এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক দুই ব্যক্তি হলেন- শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের নওশাদ গাজীর ছেলে নজির গাজী (৬৫) ও খুলনার কয়রা উপজেলার গোবরা গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে দিদারুল ইসলাম (৪০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে আটটার দিকে কিছু অপরিচিত ব্যক্তি সুন্দরবন সংলগ্ন যতীন্দ্রনগর বাজারে এসে পৌঁছায় এবং যানবাহনের খোঁজ করতে থাকে। এ সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে বাজারের লোকজন ধাওয়া করে দিদারুল ইসলামকে ধরে ফেলে এবং পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে দিদারুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি নজির গাজীর নাম প্রকাশ করে। পরে রাত ১১টার দিকে স্থানীয়রা মীরগাং নদীর চরে রাখা একটি নৌকার পাশ থেকে নজির গাজীকে আটক করে। তবে তার ছেলে আব্দুর রহিম পালিয়ে যায়।
আটক নজির গাজী পুলিশকে জানান, ১০ হাজার টাকার চুক্তিতে সুন্দরবনের কুখ্যাত 'জোনাব বাহিনীর' দুই সদস্যকে যতীন্দ্রনগর বাজার পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
অন্যদিকে দিদারুল ইসলাম জানান, তিনি নজির গাজীর অধীনে শ্রমিক হিসেবে সুন্দরবনে কাজ করতেন। নজিরের ছেলে আব্দুর রহিমের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি এই কাজে জড়িয়ে পড়েন। সুন্দরবন থেকে ফিরে তারা মীরগাং এলাকার এক ব্যক্তির বাড়িতে উঠেছিলেন এবং সেখান থেকে বাড়ি ফেরার জন্য যানবাহন খুঁজছিলেন।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নজির গাজীকে আটক করেছে। পরে তার দেয়া তথ্যে ভিত্তিতে তাদের ব্যবহৃত নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে একটি একনলা বন্দুক ও একটি দা উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, আটক দুইজন মাছ ধরার ছদ্মবেশে সুন্দরবনে প্রবেশ করে জলদস্যু কার্যক্রমে যুক্ত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জোনাব বাহিনীর বিস্তারিত পরিচয় ও কার্যক্রম সম্পর্কে আরও তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।