বাগাতিপাড়ায় সরকারি বরাদ্দের লবণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ জুন, ২০২৫, ৮:৩০ পিএম

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া সরকারি লবণ বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাগজে-কলমে বিতরণ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান বরাদ্দকৃত লবণ বুঝে পায়নি। আবার কেউ কেউ জানেই না তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে কি পরিমান লবণ বরাদ্দ রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল করে ‘লুট’ করা হয়েছে সরকারি বরাদ্দ। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, চাহিদা বা সক্ষমতা বিবেচনা না করে ইচ্ছেমতো বরাদ্দ বণ্টনেরও।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের জন্য চলতি বছর বাগাতিপাড়ায় ২৯ টন লবণ বরাদ্দ পায়। যা উপজেলার ৩০টি মাদ্রাসা ও এতিমখানার মাঝে বিতরণ দেখানো হয়েছে। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউএনও স্বাক্ষরিত মাস্টাররোলে বরাদ্দের পুরো লবণ উত্তোলন দেখানো হলেও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান তা বুঝে পায়নি। প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি স্বাক্ষর না করলেও বিতরণের মাস্টাররোলে তার স্বাক্ষর রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান চামড়া সংগ্রহ না করায় তাদের নামে বরাদ্দ হওয়া লবণ গ্রহণ করেননি। তবে নথিপত্রে স্বাক্ষর জাল করে তাদের বরাদ্দের লবণও বিতরণ দেখানো হয়েছে। বাস্তবে বরাদ্দের আংশিক বিতরণ হলেও নথিপত্রে বিতরণ দেখানো হয়েছে সম্পূর্ণ বরাদ্দ। 

জামনগর পশ্চিমপাড়া ফাতেমাতুয যাহরা নুরুল কোরআন মহিলা মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক বিপ্লব উদ্দীন বলেন, আমাদের মাদ্রাসার জন্য ৯০০ কেজি অর্থাৎ ১৮ বস্তা লবণ বরাদ্দ ছিল। কিন্তু আমি লবণ উত্তোলনের দিন উপজেলায় যাইনি এবং লবণ নিইনি। অথচ দেখছি মাস্টাররোলে আমার জাল স্বাক্ষর দিয়ে উত্তোলন দেখানো হয়েছে।

একই অভিযোগ করেছেন জামনগর পশ্চিমপাড়া হাফেজিয়া ক্বওমি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মখলেসুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের মাদ্রাসাকে ১৮ বস্তা লবণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা শুরুতেই জানিয়ে দেই, আমরা চামড়া সংরক্ষণ করতে পারবো না। তাই লবণ নিইনি। কিন্তু মাস্টাররোলে দেখা যাচ্ছে, আমরা লবণ উত্তোলন করেছি।

তালিকায় নাম থাকা মাদরাসাতুল কোরআন ওয়াসসুন্নাহ মাদ্রাসার শিক্ষক জুবায়ের হোসেন জানান, গত রমজান মাসে তিনি ওই মাদ্রাসার চাকরি ছেড়েছেন। যেহেতু প্রতিষ্ঠানে নেই তাই তিনি লবণ উত্তলোন করেননি। মাস্টাররোলে থাকা স্বাক্ষরও উনার না বলে জানান তিনি।

এসব অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হা-মীম তাবাসসুম প্রভা বলেন, ‘মাস্টাররোল যেটা দেওয়া হয়েছিল তার পরে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান বলে যে তারা লবণ নিবে না। পরে আমরা ২৬ টা প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ দিয়েছি।’ জাল স্বাক্ষরের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাক্ষর ঠিকই থাকার কথা বলে জানান এই কর্মকর্তা।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft