দেবীগঞ্জে তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে দুই ভারতীয়র বাংলাদেশী নাগরিকত্ব
দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ মে, ২০২৫, ৮:০৩ পিএম

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভুয়া জন্ম নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে দুই ভারতীয় নাগরিক ওয়ারিশন সনদ সংগ্রহ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

অভিযুক্ত ভবেন্দ্রনাথ রায় প্রধান ও ব্রজেন্দ্রনাথ রায় প্রধান পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি থানার পশ্চিম মাগুরমারী গ্রামের  নাগরিক।

তারা বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের জায়গীরপাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা সেজে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন সনদ, হোল্ডিং ট্যাক্স কাগজ এবং ওয়ারিশ সনদ তৈরি করে বাংলাদেশি পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেন।  জানা যায়, বজেন্দ্র নাথের ছেলে হিতেন রায় প্রধান ভারতের আধা সামরিক বাহিনী আসাম রাইফেলসে কর্মরত—যা এই ঘটনায় দেশের নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ভারতীয় আধার কার্ড ও নির্বাচন কমিশনের পরিচয়পত্র থেকে দুই ভাইয়ের ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে।  ভবেন্দ্রের আধার নম্বর ৪৪১৭০৩৯৫৪৩৯৪ এবং ভোটার নম্বর WB/03/015/222490। আরেকভাজ বজেন্দ্রের আধার নম্বর ৬৪৬৭২৫৮০৯৪৩৪ এবং ভোটার নম্বর JLG3534427। অন্যদিকে বাংলাদেশের পরিচয়পত্রে ভবেন্দ্রের নম্বর ১০৪৬৭৪৬২২৬ ও  জন্ম নিবন্ধন নম্বর ১৯৫৪৭৭১২৫৮০০১৩৯৭২ এবং বজেন্দ্রের এনআইডি নম্বর ৭৩৭৯১১৩০৭৪ ও জন্ম নিবন্ধন নম্বর ১৯৫৭৭১২৫৮০০১৪০২০।

এসকল ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে তারা দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওয়ারিশন সনদ সংগ্রহ করেছেন এবং পাসপোর্ট প্রাপ্তির জন্য আবেদন করেছেন এবং মোবাইল সিম কার্ডও তুলেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এলাকাবাসী কখনো এই দুই ভাইকে দেখেননি। এছাড়াও  মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়ন পরিষদে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, ওই দুই ভাইয়ের জন্ম নিবন্ধন নম্বর দুটি অন্য ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত এবং হোল্ডিং নম্বরও বাস্তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকানার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে পরিষ্কারভাবে প্রতীয়মান হয়, তারা জাল তথ্যের ভিত্তিতে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে, এত জাল কাগজপত্র যাচাই না করেই কীভাবে তাদের পরিচয়পত্র ইস্যু করা হলো, আর কারা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মফিজ উদ্দিন দাবি করেন, তার নাম ব্যবহার করলেও জাতীয় পরিচয়পত্রের আবেদনে তিনি কোনো স্বাক্ষর করেননি।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু আনছার মো. রেজাউল করিম জানান, বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসক মহোদয়কে চিঠি দিয়ে এনআইডি বাতিলের অনুরোধ করা হয়েছে।

বোদা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তকদির আলী সরকার জানান, প্রাথমিকভাবে কাগজপত্র সঠিক মনে হলেও পরে জালিয়াতির প্রমাণ মেলে। এরপর গত ১০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনে এনআইডি বাতিলের আবেদন পাঠানো হয়। তবে দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে সাংবাদিক পরিচয়ে বজেন্দ্র নাথের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন, আপনি যেই হোন না কেন, আমাকে সরাসরি ফোন দেওয়ার কোনো অধিকার আপনার নেই। আমার জাতীয় পরিচয়পত্রে যা দেওয়া আছে, সেটাই ঠিকানা। চেয়ারম্যানের কাছে যান, জানতে হলে সরকারের কাছে যান। এরপর তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ভবেন্দ্রের নম্বরে ফোন করলে দেবীগঞ্জ উপজেলার কাদেরের মোড় এলাকার মোস্তফা নামের এক ব্যক্তি বলেন, ওনার নাম্বার আমার কাছে আছে। আমি আদালতে তার একটি মামলা দেখাশোনা করছি।

এই জালিয়াতি শুধু একটি প্রতারণার উদাহরণ নয় বরং দেশের নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য  বড় ধরনের হুমকী।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft