প্রকাশ: শনিবার, ৩ মে, ২০২৫, ৭:৩১ পিএম

চাকরি নিয়েছেন মাস্টার্স প্রথম শ্রেণির যোগ্যতা দেখিয়ে। অনুসন্ধানে মিলেছে দ্বিতীয় শ্রেণি। আবার কেউ নির্ধারিত যোগ্যতা মাস্টার্স পাস ছাড়াই নিয়েছেন চাকরি। কারো নিয়োগকালীন দেওয়া সনদে রয়েছে একাধিক অসংগতি।
আর এভাবেই বছরের পর বছর ধরে চাকরির সুবাদে তুলেছেন সরকারি প্রাপ্ত বেতন-ভাতাদি। এমন ১৬ চাকরিজীবীর সন্ধান মিলেছে খুলনার নগরের ‘মেট্রোপলিটন কলেজে’। যাদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষক, প্রদর্শক ও ল্যাব সহকারীসহ কর্মকর্তারা।
জাল জালিয়াতির ঘটনায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভিন্ন দপ্তরে পত্র দিলেও প্রতিকার মেলেনি। এসব ব্যক্তি কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য গোপন করে এ কাজ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
খুলনা নগরের সোনাডাঙ্গা থানার সবুজবাগে ২০০২ সালে মেট্রোপলিটন কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৪ সালে এটি এমপিওভুক্ত হয়। কলেজে সব মিলিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী ৫০ জন। যাদের মধ্যে সাধারণ শাখায় ৩৯ ও বিএম শাখায় ১১ জন। তবে এখনো ডিগ্রি শাখা এমপিওভুক্ত হয়নি।
কলেজে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৬ জন অভিযুক্তের মধ্যে রয়েছেন আরবি সাহিত্য বিষয়ের প্রভাষক মো. জিয়াদ আলী। ইংরেজি বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক এ এইচ এম মাহবুবুর রহমান শামিম। বিজ্ঞান বিষয়ের সার্টিফিকেট না থাকা সত্ত্বেও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে প্রদর্শকের চাকরি করছেন ঠাকুর দাস মণ্ডল। ব্যবসায় উদ্যোগ ও ব্যাবহারিক ব্যবস্থাপনা বিষয়টি কলেজে অনুমোদন না থাকলেও এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হয়েছেন এম ডি সাইদুজ্জামান। অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক ভুগোল বিষয়টি কলেজে স্থগিত থাকলেও বহাল রয়েছেন প্রভাষক শরিফুল আলম, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স করে নিয়োগবিধি ছাড়াই কম্পিউটার বিভাগের প্রভাষক হয়েছেন মনিরা জামান। নিয়োগকালে শর্ত অনুযায়ী আবশ্যক প্রশিক্ষণের সনদ দিতে পারেননি কম্পিউটার প্রদর্শক শেখ মইন উদ্দিন। ছয় মাসের ডিপ্লোমা কোর্সের সনদ ছাড়াই নিয়োগ পান সাচিবিকবিদ্যার ল্যাব সহকারী শরিফুজ্জামান মোল্লা। এ ছাড়া অফিস সহায়ক শেখ আলমগীর হোসেন, কাজী খায়রুল ইসলাম ও পলি আক্তারের চাকরি ও এমপিওভুক্তিতে দেওয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদও সঠিক নয়।
জাল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত এসব শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, হিসাব ও নিরীক্ষাসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেন কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক দাতা সদস্য এস এম মমিনুল ইসলাম। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এসব অভিযোগের সঙ্গে জাল জালিয়াতির প্রমাণপত্রও দাখিল করা হয়েছে।
কলেজটির ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযুক্তরা চাতুরতার সঙ্গে প্রায় ২১ বছর চাকরি বাবদ ১৩ কোটির বেশি টাকা ভোগ করেছেন। নৈতিকভাবেই এ অর্থ ফেরত দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ ব্যাপারে জানতে কলেজের অধ্যক্ষ ও অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা দিবাকর বাওয়ালীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি বর্তমানে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে শারীরিক নানা জটিলতা নিয়ে দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন আছি।